সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর মতো সামরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে চীন। দীর্ঘপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্রের মজুদ বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের কারণে এই নিরাপত্তা ঝুঁকি দিন দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘লোয়ি ইনস্টিটিউট’ গত রোববার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যানবেরার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি হলো চীনের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ, অত্যাধুনিক সাবমেরিন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের ‘ডিএফ-২৭’ মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, যা দিয়ে অনায়াসেই অস্ট্রেলিয়াকে নিশানা করা সম্ভব। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী এক দশকে চীনের আক্রমণ সক্ষমতা আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে এই ডিএফ-২৭ এবং পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমীকরণ আরো জটিল হয়ে উঠছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক স্যাম রোগেভিন অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে, এই মূল্যায়ন চীনের বর্তমান সামরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ওপর নয়। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্লেষণ আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য নয়, আবার অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিরও নয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির দ্রুত সম্প্রসারণ, যা নিয়ে আরো তথ্যভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত আলোচনা প্রয়োজন।’ মূলত চীনের নৌবাহিনীর এই জয়যাত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছিল।


