লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জেরে বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর, বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে এবং বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ ডায়েরি না নেয়ার অভিযোগে আদিতমারী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের কৃষক নলিনী কান্তের মেয়ে নন্দিনী রানী। সোমবার বিকেলে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরিবার আদিতমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতে সদ্য খোঁড়া গর্তের সন্ধান পায় স্থানীয়রা। সেখানে মাটিচাপা ও বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং প্রমাণ গোপন করতে লাশ বস্তায় ভরে মাটিচাপা দেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্রের (২৩) বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে প্রশাসনের সাথে সর্ঘষে জড়িয়ে পড়েন।
নিহত শিশুর মা সাবিত্রী রানী বলেন, ‘আমার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে ভুট্টাখেতে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই’।
নিহতের বাবা নলিনী কান্ত বলেন, ‘গ্রামে কারো সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। ছোট্ট মেয়েটিকে যারা এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে ধর্ষণের বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন প্রতিবেশী বিধান চন্দ্রের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে কয়েকটি ঘর ও মালামাল পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয়সহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিপে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সকাল থেকে আমি নিজেও ঘটনাস্থলে ছিলাম। ইটের আঘাতে আমিও আহত হয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমাদের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দানের ঘটনায়ও মামলা হবে।’
জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ‘নৃশংস এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। জিডি গ্রহণে গাফিলতির কারণে আপাতত ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।


