দুই ছাত্রনেতাকে পঙ্গু করার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

‘ওদের ব্রেইন ওয়াশ করা গুলি করে মেরে ফেলেন’

রাতের আঁধারে বন্দলীতলা মাঠের নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে উঠেছিল রাষ্ট্রীয় অস্ত্র; যে অস্ত্রের দায়িত্ব ছিল নাগরিকের সুরক্ষা দেয়া, তা-ই কেড়ে নিলো তরতাজা দু’টি যুবকের চলার শক্তি। ক্ষতবিক্ষত পায়ে তখন রক্তের আলপনা, আর সেই ক্ষতে যখন নির্মমভাবে লেপে দেয়া হচ্ছিল বালু, তখন ডুকরে কেঁদে উঠেছিল মানবতা। বন্দুকযুদ্ধের সাজানো নাটকের আড়ালে ক্ষমতার এমন এক পৈশাচিক উল্লাসের খতিয়ান গতকাল উন্মোচিত হলো খোদ আদালতের কাঠগড়ায়। যশোর সরকারি এম এম কলেজের দুই ছাত্রনেতাকে পুলিশি হেফাজতে নির্মম নির্যাতন ও পায়ে গুলি করে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেয়ার সেই অন্ধকার অধ্যায় এবার উপস্থাপন হলো ট্রাইব্যুনালের সামনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
পুলিশের গুলিতে পা হারানো যশোরের দুই শিবির নেতা সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে আসেন : নয়া দিগন্ত
পুলিশের গুলিতে পা হারানো যশোরের দুই শিবির নেতা সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে আসেন : নয়া দিগন্ত

রাতের আঁধারে বন্দলীতলা মাঠের নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে উঠেছিল রাষ্ট্রীয় অস্ত্র; যে অস্ত্রের দায়িত্ব ছিল নাগরিকের সুরক্ষা দেয়া, তা-ই কেড়ে নিলো তরতাজা দু’টি যুবকের চলার শক্তি। ক্ষতবিক্ষত পায়ে তখন রক্তের আলপনা, আর সেই ক্ষতে যখন নির্মমভাবে লেপে দেয়া হচ্ছিল বালু, তখন ডুকরে কেঁদে উঠেছিল মানবতা। বন্দুকযুদ্ধের সাজানো নাটকের আড়ালে ক্ষমতার এমন এক পৈশাচিক উল্লাসের খতিয়ান গতকাল উন্মোচিত হলো খোদ আদালতের কাঠগড়ায়। যশোর সরকারি এম এম কলেজের দুই ছাত্রনেতাকে পুলিশি হেফাজতে নির্মম নির্যাতন ও পায়ে গুলি করে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেয়ার সেই অন্ধকার অধ্যায় এবার উপস্থাপন হলো ট্রাইব্যুনালের সামনে।

যশোরের চৌগাছায় গ্রেফতারের পর তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদের একক বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এ দিন আদালতের কার্যক্রমের শুরুতেই প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার। এরপরই প্রথম সাক্ষী ও মামলার অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী মো: ইসরাফিল হোসেনের জবানবন্দী গ্রহণের মধ্য দিয়ে মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে গত ১ জুন এই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও, প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তা পিছিয়ে মঙ্গলবার পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন। তারও আগে, গত ২০ এপ্রিল এই আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।

আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে সাক্ষী মো: ইসরাফিল হোসেন জানান, ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দল জামায়াত-শিবির, বিএনপিসহ ভিন্ন মতের লোকদের পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিজিএফআই সদস্যদের মাধ্যমে গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও পায়ে গুলি করে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার নীতি গ্রহণ করে। এর বিরুদ্ধে ২০১৪ সাল থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রশিবির যশোর জেলার চৌগাছা থানার সেক্রেটারি ছিলেন এবং তার আগে চৌগাছা থানার স্বরূপদাহ ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক কারণে তৎকালীন সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা বহুবার তার বাসায় হামলা চালায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের গুম ও ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি যশোর শহরের একটি মেসে আশ্রয় নিলে, সেখানেও পুলিশ রেইড (অভিযান) দেয় এবং তাকে না পেয়ে মেসের অন্য এক সদস্যকে আটক করে নিয়ে যায়।

ঘটনার দিনের বিবরণ দিয়ে ইসরাফিল হোসেন জানান, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট দুপুরের পর তিনি এবং তার বন্ধু রুহুল আমিন সাংগঠনিক কাজ শেষে মোটরসাইকেলে যশোর শহর থেকে চৌগাছা থানার নারায়ণপুর গ্রামে রুহুল আমিনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রুহুল আমিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের চৌগাছা থানার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। তখন ইসরাফিল যশোর সরকারি এম. এম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং রুহুল আমিন একই কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তারা চৌগাছা থানার বন্দলীতলা গ্রামের শফি মল্লিকের ইটের ভাটার কাছে পৌঁছালে, আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চৌগাছা থানার পুলিশ তাদের থামায়। পুলিশ তাদের চিনে ফেলে এবং বলে, ‘তোদের অনেক দিন থেকে খুঁজছি।’ এরপর তাদের সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বাইতুল মাল আদায়ের একটি রশিদ বই ও দলীয় কয়েকটি বই উদ্ধার দেখিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককারী পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ইসরাফিল, এসআই মোখলেস, এএসআই মাজেদ ও এএসআই সিরাজুল ইসলামকে চিনতে পারেন। এ ছাড়া সাথে থাকা অপর দু’জন কনস্টেবলকে তিনি পরে শনাক্ত করেন। আটককারীদের মধ্যে এএসআই সিরাজুল ছাড়া বাকি সবাই সাদা পোশাকে ছিলেন।

আটকের পর রাত আনুমানিক ১১টা পর্যন্ত তাদের থানা হাজতে রাখা হয়। এরপর তাদের তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানের রুমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে বুট জুতো দিয়ে লাথি, লাঠি দিয়ে মারধর, চর, থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মেরে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে ওসি মশিউর ভিডিও কলে তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানকে তাদের দেখিয়ে বলেন, ‘স্যার, আপনার নির্দেশনামতে এই দুইজনকে গ্রেফতার করেছি।’ তখন এসপি আনিসুর নির্দেশ দেন, ‘সকালে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। পরে আমার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবা।’ জবানবন্দীতে সাক্ষী জানান, তিনি এসপি আনিসুরকে আগে থেকেই চিনতেন। নির্যাতন চলাকালে অভিযুক্ত এসআই আকিকুল ইসলাম ওসিকে উদ্দেশ্য করে নিষ্ঠুরভাবে বলেন, ‘স্যার, ওদের ব্রেইন ওয়াশ করা, এরা কিছু বলবে না, এদের গুলি করে মেরে ফেলেন।’ মূলত সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাদের সাথে আর কারা জড়িত, তা জানতেই এই নির্যাতন চালানো হয়। রাত আনুমানিক ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে তাদের পুনরায় হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে তাদের পরিবারের লোকজন ও সাংবাদিকরা থানায় এলে তাদের সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। এরপর এসআই আকিকুলের নেতৃত্বে তাদের যশোর ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডিবির একজন সদস্য তাদের বলেন যে, এসপির নির্দেশ আছে রাতেই তাদের ক্রসফায়ার দেয়ার।

২০১৬ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যার পর এসআই আকিকের নেতৃত্বে ডিবি অফিস থেকে তাদের নিয়ে পুনরায় চৌগাছা থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়। পথে আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ এবং চোখে গামছা বেঁধে দেয়া হয়। পুলিশ সদস্যরা নিজেরা বলাবলি করছিলেন যে, তাদের বন্দলীতলা মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বন্দলীতলা মাঠে তোতা মিয়ার বাড়ির সামনে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। সেখানে তারা গুলির শব্দ শুনতে পান। তখন একজন বলে ওঠেন, ‘ফায়ার অফ’; কণ্ঠ শুনে ইসরাফিল বুঝতে পারেন তিনি ছিলেন ওসি মশিউর। তারা ভেবেছিলেন হয়তো তাদের আর গুলি করা হবে না। কিন্তু এর অল্প কিছুক্ষণ পর ওসি মশিউর নির্দেশ দেন ‘সাজ্জাদ, জহুরুল, ফায়ার!’।

সাথে সাথে বিকট শব্দ হয় এবং তার বন্ধু রুহুল আমিন ‘মাগো’ বলে চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এর অল্প কিছুক্ষণ পর ইসরাফিল তার বাম পায়ের হাঁটুতে বন্দুকের স্পর্শ অনুভব করেন এবং বিকট শব্দে তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। (এই পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দেয়ার সময় সাক্ষী আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন)। গুলি লাগার পর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে পুলিশ হাতের হ্যান্ডকাফ এবং চোখের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর তারা রাস্তার কিছু ধুলাবালু ক্ষতস্থানে মেখে তা গামছা দিয়ে বেঁধে দেয়। ইসরাফিল চোখ খুলে দেখেন পাশে তার বন্ধু রুহুল আমিন পড়ে আছেন এবং তার পায়েও গুলি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তিনি ওসি মশিউর, এসআই আকিক, এএসআই মাজেদ, কনস্টেবল জহুরুল এবং সাজ্জাদকে দেখতে পান। এছাড়া সেখানে পুলিশের অনেক গাড়ি ও আশপাশে অনেক লোকজন ছিল।

গুলির পর পুলিশ তাদের গাড়িতে করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুই দিন তাদের কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ফেলে রাখা হয়। ক্ষতস্থানে বালু ও ধুলাবালু দেয়ার কারণে ইনফেকশন (সংক্রমণ) ছড়িয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। পঙ্গু হাসপাতালে ১৫ দিন চিকিৎসার পর পায়ে মারাত্মক পচন ধরে। ফলে চিকিৎসকরা ইসরাফিলের বাম পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে বাধ্য হন। (এ সময় সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে তার বাম পা দেখান, যা হাঁটুর ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন)। পঙ্গু হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা নেয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে প্রেরণ করে এবং সেখান থেকে তাদের জেলখানায় পাঠানো হয়। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটিসহ মোট দু’টি মিথ্যা মামলা করে। ওই মামলায় ৩৩ দিন কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্ত হন এবং পরে তদন্তে অস্ত্র মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

সাক্ষী ইসরাফিল হোসেন তার জবানবন্দীতে আরো উল্লেখ করেন, জেলখানায় তারা এই ধরনের অসংখ্য মানুষকে দেখতে পান, যাদের তাদের মতোই পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে তিনি যশোর শহরের আল-মুসাইব এবং সোলাইমানকে চিনতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে যাদের গুলি করে পঙ্গু করা হয়, তাদের মধ্যে যশোর ঝিকরগাছার রুহুল আমিন, মনিরুল ও মনিরুজ্জামান এবং বেনাপোলের আবুল কাশেম, বুলবুল ও আলী হায়দারকে তিনি শনাক্ত করেন।

তিনি এই পুরো বর্বরোচিত ঘটনার জন্য সাবেক এসপি আনিসুর রহমান, ওসি মশিউর রহমান, এসআই আকিকুল ইসলাম, এএসআই মাজেদ, কনস্টেবল সাজ্জাদ এবং কনস্টেবল জহুরুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং গুলি করার বিষয়ে তৎকালীন সময়ে প্রকাশিত তিনটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদান করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জব্দ তালিকা মূলে সেগুলো জব্দ করেন। পত্রিকাগুলো হলো ০৬-০৮-২০১৬ তারিখের দৈনিক লোকসমাজ, ১৬-১০-২০১৮ তারিখের নয়া দিগন্ত এবং ২৯-০৮-২০১৮ তারিখের দৈনিক সংগ্রাম (যা মামলার জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণপত্র ভলিউমের ১-৫ নং পাতা এবং আদালতে ‘প্রদর্শনী-১ সিরিজ’ হিসেবে চিহ্নিত)। জব্দ তালিকায় থাকা তার স্বাক্ষরটি ‘প্রদর্শনী-১/১’ এবং জিম্মানামাটি ‘প্রদর্শনী-১/২’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তাদের এই ঘটনা প্রকাশিত ও প্রচারিত হয় এবং ২০১৬ সালে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর বার্ষিক প্রতিবেদনেও তাদের নামসহ এই ঘটনার বিবরণ রয়েছে।

এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া তিন আসামি চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হককে এ দিন কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে অভিযোগ গঠনের সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছিলেন। অন্য দিকে মামলার প্রধান দুই পরিকল্পনাকারী তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান ও ওসি মশিউর রহমানসহ এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।