আরো একটি ‘মেসিময়’ বিশ্বকাপের আভাস!

লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর পথে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি |সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চটা যেন তার কত চেনা! অবশ্য হওয়ারই কথা, রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন তিনি। সর্বোচ্চ ম্যাচ আর সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ডটাও তো তার।

চেনা মঞ্চে তাই চেনা রূপেই। কোনো দ্বিধা নেই, কোনো সংশয় নেই। যেন আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন! নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে দলকে জেতালেন। নিজে ছুটলেন অমরত্বের পথে।

মেসি জাদুতে কোনো ভুল নয়, চ্যাম্পিয়নের মতোই শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করলো আর্জেন্টিনা। নয়া আসরের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তারা।

কীর্তিমান মেসি নয়া কীর্তি গড়তে সময় নেননি। কাতার বিশ্বকাপের ছন্দটাই যেন টানলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সময়ের সাথে যেন আরো পরিণত তিনি, আরো জাদুকরী। অভিজ্ঞতার তো একটা দাম আছে নাকি!

এ দিন মাঠে নেমেই ইতিহাসে নাম লেখা হয়ে যায় তার। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার তিনিই। এছাড়া অর্জনে-গর্জনে আর পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তো তিনিই।

এদিন একইসাথে আর্জেন্টিনার প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছুঁয়ে ফেলেন ম্যাচ খেলার ডাবল সেঞ্চুরিও। পরে উপলক্ষটি রাঙান তিনি ঐন্দ্রজালিক পারফরম্যান্সে। নামের মান রাখতে হতো, যা রাখলেন মেসি।

আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি পেয়ে গেছেন বহুল কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপের মঞ্চে যা তার প্রথম হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে স্বীকৃত ফুটবলে ৬২তম। আর জাতীয় দলের জার্সিতে ১১তম হ্যাটট্রিক।

দেশের জার্সিতে মেসির চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক নেই আর কারো। ১০টি করে হ্যাটট্রিক নিয়ে তার ঠিক পেছনেই আছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ইংল্যান্ডের ভিভিয়ান উডওয়ার্ড।

যদিও স্বীকৃত ফুটবল মিলিয়ে রোনালদো এগিয়ে। সর্বাধিক ৬৬ হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। বলা বাহুল্য যে মেসির আজকের হ্যাটট্রিকটা এবারের আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক।

সেই সাথে গড়েছেন দারুণ আরো এক রেকর্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। বসেছেন জার্মানি কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে। দু’জনের গোল সমান ১৬টি করে।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই উদ্দীপ্ত ছিলেন মেসি। প্রথম জালের দেখা পান পঞ্চম মিনিটেই। গ্যালারিতে উল্লাসও শুরু হয়ে যায়, কিন্তু রেফারি অফসাইডের পতাকা উঠালে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়।

কিন্তু গোলের জন্য যেন তর সইছিল না মেসির। তাই জালের দেখা পেতেও দেরি হলো না। ম্যাচের ১৭ মিনিটে আসল সেই জাদুকরী মুহূর্তটি। দর্শকদের আনন্দ দিয়ে করলেন দর্শনীয় গোল।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। বক্সের বাইরে থেকে প্রায় ২৫ গজ দূর হতেই নেন জোরাল শট।

আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দু’হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জড়ায় জালে। কেঁপে ওঠে গোটা কানসাস স্টেডিয়াম। আলবিসেলেস্তারা এগিয়ে যায় ১-০ তে।

এরপর একটু বিরতি নিয়ে মেসি ম্যাজিক দেখা যায় ম্যাচের ৬০ মিনিটে। বুদ্ধিদীপ্ত গোলে দলকে ফের এগিয়ে দেন তিনি। পেয়ে যান জাতীয় দলের হয়ে ১১৯তম গোলের দেখা।

প্রথমে অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। সুযোগ পেয়ে ফিরতি শটে বল জালে জড়ান মেসি।

মেসি হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন দ্বিতীয় গোলটা করার পরপরই। তবে ৬৬ মিনিটে তার নেয়া শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আলজেরিয়া গোলরক্ষক। তবে অপেক্ষা বাড়েনি।

বহুল কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিকটা পেয়ে যান ম্যাচের ৭৬ মিনিটে। নিকো গনসালেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক মাথা থেকে দারুণ এক গড়ানো শটে গোলরক্ষক জিদানকে পরাস্ত করেন তিনি।

তবে এরপর পরই মেসি তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলের সেরা তারকাকে নিয়ে রিস্ক নিতে চাননি তিনি। মাঠ ছাড়ার কালে গোটা গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে। যা তিনি প্রাপ্য বটে।

২০০৬ সালের ১৬ জুন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরার হয়েছিলেন মেসি। ১৮ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে গোল করেন তিনি।

ঠিক ২০ বছর পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলস্কোরারও হলেন তিনি। সেই সাথে নাম লেখালেন বিশ্বকাপের ভিন্ন পাঁচটি আসরে গোলদাতাদের ছোট্ট তালিকায়।

এদিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই জয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয়ের দেখা পাওয়া ফুটবলার এখন মেসি। বিশ্বমঞ্চে ১৮টি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি।

এর আগে জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা বিশ্বকাপে ১৭টি ম্যাচ জিতেছিলেন।