দূরত্ব ছিল হাজার হাজার মাইল। মাঠ ছিল আলাদা, সময়ও ভিন্ন। কিন্তু প্রতিপক্ষ ছিল একই, আর ভাগ্যও যেন লিখে রাখা ছিল একই কালি দিয়ে। যা মোটেও সুখকর ছিল না বাংলাদেশের জন্য।
বুধবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেন ফিরে এলো এক হতাশার দিন। একদিকে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল টাইগাররা, অন্যদিকে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একই প্রতিপক্ষের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশের মেয়েরা।
লিডসের মাঠে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৭ রানেই হারিয়ে ফেলে ৫ ব্যাটার। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানের লজ্জার রেকর্ডও হয়তো গড়তে যাচ্ছে দল।
সেই ধসের মধ্যে একাই লড়াই করার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও রান তোলার গতি ছিল খুবই ধীর। তার ৪৭ বলে ২৭ রানের ইনিংস মান বাঁচায় টাইগ্রেসদের।
বিশ্বকাপে অন্তত ৪৫ বল খেলা ইনিংসগুলোর মাঝে এটিই সর্বনিম্ন স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড। রিতু মনির ১৬ রান ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ থামে মাত্র ৭৭ রানে।
এমন ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হয়নি ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। মারুফা আক্তারের বলে বেথ মুনির উইকেটটি সামান্য আনন্দ এনে দিলেও সেটিই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র সান্ত্বনা।
জর্জিয়া ভোলের ৪৫ ও এলিস পেরির অপরাজিত ১৯ রানে ভর করে মাত্র ৯.৩ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধাক্কা। দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন গ্রুপের তিন নম্বরে, আর টানা দুই জয়ে শীর্ষে উঠে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে বিশ্বকাপ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সামনে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সাউদাম্পটনে শনিবারের সেই লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার অপেক্ষায় থাকবে বাংলাদেশের সমর্থকরা।


