সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন, সমারোহ বাড়লেও দামে বড় ব্যবধান
সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে দেশসেরা সুস্বাদু আমের নতুন মৌসুম। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে আম আহরণ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। মৌসুমের তৃতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া ও তালায় আম বাজারে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, গোলাপখাস ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আমের ব্যাপক সমারোহ দেখা গেছে।
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি সরবরাহ হচ্ছে গোবিন্দভোগ আম। পাইকারি বাজারে আকার ও মানভেদে প্রতি মণ গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে এই আমের দাম ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে।
বাজারের আম ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, এবার গাছে প্রচুর আমের ফলন হয়েছে, তাই বাজারে সরবরাহও বেশি। আমের দাম তুলনামূলক কম হলেও ফলন বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।
বাজারে আম বিক্রি করতে আসা আবু সাঈদ বলেন, গোবিন্দভোগ আম প্রতি মণ ১৬০০ টাকা দাম চাইলেও ব্যবসায়ীরা ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকার বেশি বলতে চাইছেন না। ব্যবসায়ীদের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে সরবরাহ বাড়লে আমের দাম আরও কমতে পারে।
মাঠ পর্যায়ে ও স্থানীয় বাজারে আমের দাম কম থাকলেও অনলাইন বাজারে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনলাইন ব্যবসায়ীরা কুরিয়ার চার্জ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রতি কেজি আম ১২৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সে হিসেবে অনলাইনে প্রতি মণ আমের দাম পড়ছে ৫ হাজার টাকা, যা স্থানীয় বাজারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, অনলাইন ব্যবসায়ীদের দামের ওপর কৃষি বিভাগের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর জেলায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ ভাঙা শুরু হলেও আগামী ১৫ মে থেকে বাজারে আসবে বিখ্যাত হিমসাগর। সাতক্ষীরার আমের সুনাম ধরে রাখতে এবং ভোক্তাদের কাছে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি যেন কেউ কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে।
সাতক্ষীরা জেলা সদর থেকে এসব আম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। আম্রপালি ও ল্যাংড়া জাতের আম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসার কথা রয়েছে।

কে এম আনিছুর রহমান, সাতক্ষীরা (সদর-কলারোয়া-তালা-ভোমরা স্থলবন্দর)