পদ্মায় নৌপুলিশের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে জেলেদের বিক্ষোভ
শরীয়তপুরে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গেলে নৌপুলিশ গণহারে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা। জেলেরদের দাবি চাঁদপুর জেলার মহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও চাঁদপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ শরীয়তপুর অঞ্চলে ঢুকে তাদের এভাবে হয়রানি করছে। এর প্রতিবাদে গতকাল শনিবার (৯ মে) ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুলারচর লঞ্চঘাটে পদ্মাপাড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছে জেলেরা।
জেলা মৎস্যজীবী দল ও সাধারণ জেলেদের আয়োজনে সমাবেশে বক্তব্য দেন সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারোয়ার আলম।
সমাবেশ জেলেরা বলেন, চাঁদপুর থেকে আসা নৌপুলিশের গণহারে চাঁদাবাজির কারণে শরীয়তপুরের জেলেরা পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে পারছে না। নৌপুলিশের চাহিদা মোতাবেক চাঁদা দিতে না পারলে জেলেদের মাছ ধরা ট্রলার বা নৌকাসহ ধরে নিয়ে মামলা দেওয়া হয়। মহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও চাঁদপুর পুলিশ ফাঁড়ির নৌপুলিশ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা, দুলার চর এবং নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকায় পদ্মা নদীতে এসে এ গণচাঁদাবাজি করছে বলে জেলেরা অভিযোগ করেন।
সমাবেশ জেলেরা আরও বলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দুলারচর এলাকার প্রায় এক হাজার জেলে প্রতিদিন পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। জেলেরা নদীতে নামলেই তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবি করা টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।
সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারোয়ার আলম বলেন, শরীয়তপুর জেলায় এসে চাঁদপুরের মহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও চাঁদপুর পুলিশ ফাঁড়ির নৌপুলিশ জেলেদের সঙ্গে টোকেন বাণিজ্য এবং গণহারে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিলে মামলা দিয়ে দেয়।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাঁদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর