সোনালি ভুট্টা চাষে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একসময় যে জমিতে ফসল ফললেও কৃষকের মুখে হাসি ফুটত না, আজ সেই জমিই হয়ে উঠেছে আশার আলো। মাঠজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) হাইব্রিড-৩ (বি-৩৩৫৫) ভুট্টার গাছ যেন জানিয়ে দিচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এক বিপ্লব। সোনালি দানার এই ফসল এখন শুধু কৃষকের আয়ের উৎস নয়, এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার।
ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের কৃষকরা ছুটে যান ভুট্টাক্ষেতে। দিন কাটে পরিচর্যা, সেচ আর ফসল তোলার ব্যস্ততায়। কয়েক বছর আগেও যাদের সংসারে ছিল অভাব-অনটন, তারা এখন স্বাবলম্বিতার পথে হাঁটছে। ধানের লোকসান আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে হতাশ কৃষকরা এখন হাইবিড ভুট্টাতেই খুঁজে পেয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিনব্যাপী রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বালুরগ্রাম এলাকায় হাইব্রিড ভুট্টা-৩ (বি-৩৩৫৫) বীজ ফসলের প্রচার ও প্রচারণার জন্য বিএসডিসির উদ্যাগে ‘ক্রপ কাটিং ও মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় রৌমারী-রাজীবপুরের ৩৩ বীজ ডিলার ও ২৫ কৃষক।
রৌমারীর বালুরগ্রাম এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে ছয় প্যাকেট হাইব্রিড ভুট্টা বীজ চাষ করে ৮৫ মণ ভুট্টা পেয়েছেন। বাড়িতে বিক্রি করলে এক হাজার ৫০ টাকায় প্রতি মণ বিক্রি করতে পারেন আর বাজারে বিক্রি করলে এক হাজার ১৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বিক্রি করতে পারেন তিনি। হাইব্রিড ভুট্টার দানা ভালো, বাতাসেও মাটিতে পড়ে না।
একই এলাকার কৃষক শাহিন আলম জানান, তিনি বিএডিসির হাইব্রিড ভুট্টা-৩ এর ছয় কেজি বীজ এক বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। এতে এক বিঘায় ভুট্টার ফলন পেয়েছেন ৮৫-৯০ মণ। তিনি আরও বলেন, এই হাইব্রিড বীজ অনেক ভালো। ভালো ফলন পাওয়া যায়। এই বীজের গাছ অনেক শক্ত, দানা অনেক বড়, পুষ্ট। তাই সবাইকে হাইব্রিড ভুট্টার বীজ চাষ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
আরেক কৃষক রাকিবুল রহমান জানান, তিনি প্রথমে এক বিঘা জমিতে হাইব্রিড ভুট্টার পাঁচ কেজি বীজ দিয়ে চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ফলন পেয়েছেন ৮৫-৯০ মণ। এসব ভুট্টা মণপ্রতি বাড়িতে বিক্রি করেন এক হাজার টাকা। বাজারে বিক্রি করলে পান এক হাজার ১০০ টাকা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ঢাকা বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, এই হাইব্রিড ভুট্টা রোগ প্রতিরোধে সম্পন্ন, প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও ভালো হয়, গাছটি হেলেও পড়ে না। যত ঝড়-বৃষ্টি হোক তবুও দাঁড়িয়ে থাকে। যার ফলন অনেক বেশি হয় এবং কৃষকরা বিক্রি করে অনেক লাভবান হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর বিএডিসির উপপরিচালক প্রিয়তোষ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ, জামালপুর বিএডিসির উপপরিচালক সঞ্জয় রায়, রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া, জামালপুর বিএডিসির সহকারী পরিচালক বিশ্ব কুমার সাহাসহ উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জামালপুর বিএডিসির উপপরিচালক শাহিনুর রহমান।

মাসুদ পারভেজ, কুড়িগ্রাম (চর রাজিবপুর-রৌমারী)