বাজেট চানাচুর মার্কা, শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয় : আমির হামজা
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজা প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের সমালোচনা করে বলেছেন, এটা লুটপাটের বাজেট। এই বাজেটকে বাইরে অনেকে বলছে, চানাচুর মার্কা বাজেট, যা শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।
আজ বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব কথা বলেন আমির হামজা।
আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বাজেটে মূল ভিত্তি হলো রাষ্ট্রের আয় ও ব্যয়। তাই রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধির ব্যাপারে যেমন আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে, তেমনি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও আরও সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
জামায়াতের এ সংসদ সদস্য বলেন, অতি প্রয়োজনীয় উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের খাত চিহ্নিত করে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনকল্যাণের স্বার্থে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যথাযথভাবে ব্যয় করতে হবে। এটাই আমরা মনে করি। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধির জন্য কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ফাঁকি রোধ, অর্থপাচার রোধ, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণের নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে।
আমির হামজা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বেকার সমস্যা। এই বেকার সমস্যা নিরসনে শিল্পায়নের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বৈদেশিক রেমিটেন্স বৃদ্ধির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা অধিক প্রয়োজন।
আমির হামজা আরও বলেন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান খাতকে অগ্রধিকার প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি-নির্ভর একটি দেশ। কৃষি ক্ষেত্রে যত উন্নয়ন হবে, দেশ তত অর্থ সমৃদ্ধ হবে। এজন্যে কৃষকদের স্বল্পমূল্যে সার, বীজ এবং শুল্ক মুক্ত কৃষি সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা প্রয়োজন। শিক্ষাখাতে বাজেট বরাবরই কম থাকে। এবার যতটুকু হয়েছে আমরা চাই, বিশেষ করে বিশেষত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার ক্ষেত্রে এই বাজেটের সঠিক ব্যবহার যেন করা হয় এবং গবেষণার জন্য বাজেটকে আরও বৃদ্ধি করা দরকার। এ বাজেট এত কম, তা দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে তেমন কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে গবেষকরা জানাচ্ছে।
বিরোধী দলীয় এ সংসদ সদস্য বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং সব জেলা শহরে আমি একটা করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন ব্যবস্থা করলে এবারের বাজেট আরও যথার্থ হতো বলে আমি মনে করি।
আমির হামজা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে বলে আমি মনে করি। তাই সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন উন্নয়ন এবং রেল সম্প্রসারণ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। বিশেষ করে আমার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের ৪৫ কিলোমিটার, মাঝখানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখানে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে। এদের জন্য ট্রেনের যে ব্যবস্থাটা করা হয়েছে রেললাইন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আমরা শুনেছি। এখনও কার্যকার কোনো ভূমিকা দেখতে পাইনি। আশা করি, এই ব্যবস্থাটাও এই আগামী বাজেটে অন্তত আসবে। এই বিশাল বাজেট প্রণয়ন হলে বিগত সময়ের মতো বর্তমান সরকার দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তিরা যে অর্থ পাচার করবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? দুই দল থেকেই আমরা বহু কথা শুনেছি, বাজেটের ওপরে। আমার মনে হচ্ছে, গতানুগতিক কথাই বেশি আসতেছে। ওনারা কথা তুললেই বলা হচ্ছে, বাজেট নিয়ে সারা দেশে আনন্দ মিছিল হয়। আমরা ১১ জুন বাজেট উপস্থাপন করার পর সারা দেশের যে সমস্ত জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধনের মতো যে প্রতিক্রিয়াগুলো দেখলাম, আমার মনে হয় এই মানুষগুলো কি ওনাদের দৃষ্টিতে মানুষ না বা এ দেশের জনগণ না? এরা যদি জনগণ হয় বা মানুষ হয় তাহলে তাদের এই প্রতিক্রিয়া কেন? সুতরাং বাজেট নিয়ে এক্ষেত্রে অর্থপচার রোধের সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পলিসি আমরা জানতে পারিনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক