অর্থ সংকটে থমকে যাচ্ছে পাঁচ শিশুর বেড়ে ওঠা
পটুয়াখালীর বাউফলে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ সন্তানের খরচ বহন করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এক দম্পতি। বিয়ের পাঁচ বছর পর একসঙ্গে পাঁচ সন্তান সংসারে হাসি-আনন্দ ফিরিয়ে আনলেও তীব্র অর্থ সংকটের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা এখন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমাজের বিত্তবানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এগিয়ে এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে বাউফল উপজেলার ঘুরচাকাঠি গ্রামের লামিয়া আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার সিংহেরাকাঠি গ্রামের সোহেল হাওলাদারের বিয়ে হয়। পেশায় সোহেল একজন ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ী। সিংহেরকাঠি বাজারে তার একটি ছোট দোকান রয়েছে। বিয়ের পাঁচ বছরেও এই দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন লামিয়া। এদের মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুজন মেয়ে। তিন ছেলের নাম রাখা হয়েছে মো. হাসান, মো. হোসাইন ও মো. মুহাচ্ছিন এবং দুই মেয়ের নাম উমামা ও লাবিবা। সন্তানদের জন্মের পর থেকেই লামিয়া বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে রয়েছেন।
পাঁচ শিশুর মা লামিয়া জানান, জন্মের পর থেকেই শিশুদের প্যাকেটজাত দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। এখন প্রতিদিন দুধ, ডায়পার ও ওষুধপত্রসহ সপ্তাহে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু তার স্বামীর স্বল্প আয় এবং শ্রমজীবী বাবার পক্ষে এই বিপুল ব্যয় বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধারদেনা ও ঋণ করে সন্তানদের লালন-পালন করতে হচ্ছে। টাকার টানাপোড়েনের কারণে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার ও জরুরি চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না, যার ফলে শিশুরা পুষ্টিহীনতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে।
লামিমা আরও বলেন, অনেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তা দিয়ে পুরোপুরি খরচ মেটানো যায় না। শিশুদের সুন্দর ও সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে বড় কোনো স্থায়ী সহায়তা দরকার, যা দিয়ে আমরা বিকল্প আয়ের একটা পথ তৈরি করতে পারব।
শিশুদের বাবা সোহেল বলেন, ছোট মুদি দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। অথচ বাচ্চাদের শুধু দৈনিক দুধই লাগে এক থেকে দেড় হাজার টাকার। আমার আয়ের টাকা দিয়ে তো দুধই কিনতে পারি না, অন্যান্য খরচ কীভাবে মেটাবো? সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা বা সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্মের খবর পেয়ে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনসহ সমাজের বিত্তবানরা এই পরিবারটিকে সহায়তা করেছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার (১৬ মে) বীর উত্তম সামসুল আলম তালুকদারের ছেলে হাসিব আলম তালুকদারের পক্ষে পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসা. ঝর্ণা আক্তার পাঁচ সন্তানের মায়ের হাতে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এর আগে বাউফলের ‘৯০ ব্যাচ’ নামের একটি সংগঠন পরিবারটিকে একটি গাভী উপহার দেয়। এছাড়াও উপজেলা বিএনপি, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, পাঁচ শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে যদি সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়, তবে সরকারি তহবিল থেকে তাদের সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)