সৎমাকে হত্যা, ছোট বোনদের সাক্ষ্যে ফাঁসির মঞ্চে বড় ভাই
রাজধানীর কাফরুলে বিদেশ যাওয়ার টাকার জন্য সৎমা সালেহা বেগমকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার মামলায় আসামি মো. শামসুল হক জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি বিচারক রায়ে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের এক মাস আগে থেকেই বিদেশ যাওয়ার জন্য বাবার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন জুয়েল। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০০৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে তিনি কাফরুলের বাসায় যান। এ সময় সৎমা সালেহা বেগম তাকে পরম আদরে হালুয়া-রুটি খেতে দেন। রাতের খাবার শেষে সালেহা বেগম তার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে আবারও টাকার দাবিতে পরিবারের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন জুয়েল। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সঙ্গে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে ঘুমন্ত সালেহা বেগমের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।
সালেহা বেগমের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন নিহতের ছোট মেয়ে সাহানারা আক্তার সুখী ও ছেলে আজিজুল হক ইমন। তারা আদালতে সাক্ষ্যে জানান, মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং জুয়েলকে রক্তমাখা চাপাতি হাতে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখেন। হত্যাকাণ্ডের পর সালেহা বেগমের গলা থেকে প্রায় এক ভরি ওজনের সোনার চেইন, হাতের দুটি আংটি এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যান জুয়েল। একই সঙ্গে ছোট বোন সুখীকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকিও দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সালেহা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় হাইটেক ক্লিনিকে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ২০০৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিহতের স্বামী মো. আ. হক বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা এই মামলায় দুই সন্তানের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ ঘাতক সৎছেলের বিরুদ্ধে এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষণা করেন।

আদালত প্রতিবেদক