কোরবানির পশু নিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকার পথে ক্যাটল ট্রেন
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুর থেকে প্রায় ৪০০ কোরবানির পশু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে ক্যাটল ট্রেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে জামাপুরের ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ট্রেনটি আজ রাত ১২টার দিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে। নিরাপদ পরিবহন, স্বল্প খরচ ও পথে পথে চাঁদাবাজির হয়রানি থেকে রেহাই পেতে খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা ট্রেনে গরু পরিবহনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। গত কয়েক বছর ধরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোরবানির পশু বহনে তাদের এই সেবা চালু রেখেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় পশু পরিবহনের জন্য ক্যাটল ট্রেনটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে ছেড়ে ১১টায় ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। তারপর দুপুর ১টায় ইসলামপুর উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খামারি ও পাইকাররা ট্রেনে নিজেদের বুকিং করা ওয়াগনে পশু উঠানো শুরু করেন। বিকেল ৪টার দিকে প্রায় সব পশু ট্রেনে উঠানো শেষ হয়। এরপর বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে ট্রেনটি ইসলামপুর বাজার স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনটিতে থাকা পশুগুলো খামারি ও পাইকাররা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামাবে এবং এরপর সেগুলোকে ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে নেওয়া হবে। ট্রেনটির লোকোমোটিভ মাস্টার হিসেবে রয়েছে আবু নিদাল।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কোনবানি ঈদ উপলক্ষে খামারি ও পাইকারদের কথা ভেবে সরকার ২০২০ সালে প্রথম কেরবানির পশু পরিবহনে ক্যাটল ট্রেন চালু করে। তারপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই খামারি ও পাইকাররা এ অঞ্চলের পশু ট্রেনে করে বিক্রির জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও পশু পরিবহনে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জামালপুর থেকে ঢাকায় পশু নেওয়ার জন্য তিনটি ক্যাটল ট্রেনে মোট ৭৫টি ওয়াগন বরাদ্দ দিয়েছে। এসব ওয়াগনের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০টি কোরবানির পশু ঢাকায় পরিবহন করা হবে। প্রথম ট্রেনটি আজ বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। এরপর আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ২৫টি ওয়াগানে করে আরও প্রায় ৪০০ কোরবানির পশু নিয়ে দ্বিতীয় ক্যাটল ট্রেন ঢাকায় যাবে। এছাড়াও আগামীকাল শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টায় ২৫টি ওয়াগনে আরও ৪০০ পশু নিয়ে তৃতীয় ক্যাটল ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ার কথা রয়েছে।
একটি ওয়াগনে পশু পরিবহন করা যাবে ১৬টি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ওয়াগনের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করেছে ৮ হাজার টাকা। এতে প্রতিটি ট্রেনের জন্য রেলওয়ে বিভাগ ভাড়া পাবে দুই লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রেনের সবগুলো ওয়াগনের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। সড়ক পথের চেয়ে ট্রেনে পশু পরিবহনে খরচ কম ও নিরাপত্তা বেশি থাকায় খামারি ও পাইকাররা ট্রেনের দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন ইসমালপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া।
মোস্তাফিজ রহমান নামের এক গরু ব্যবসায়ী বলেন, আমি দশ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করি। এবার আমি ১৬টি গরু নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। সরকার আমাদের জন্য ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে এতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। ট্রেনে কম খরচে গরু ঢাকায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং ঝুঁকিও কম। ২০১৯ সালে আমি ট্রাকে করে ছয়টা বড় গরু ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। সে বছর গাজীপুরের একটু আগে আমাকে ডাকাতে ধরেছিল। তারা আমার সব কয়টি গরু নিয়ে গিয়েছিল, আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু ট্রেন চালু হওয়ার পর আমি প্রতিবছর ট্রেনে করে গরু ঢাকায় নিয়ে যাই। তবে আমাদের এখানকার গরুর যে চাহিদা তাতে তিনটা ট্রেনে হয় না। পরের বছর থেকে সরকার যদি আরো দুই-তিনটা ট্রেন বেশি দিত তাহলে ভালো হতো।
আব্দুল বারী নামের এক খামারি বলেন, আমরা যে গরু গুলো লালনপালন করে বড় করি, এখানে সেগুলোর চাহিদা মতো দাম পাই না। তাই আমরা বেশি দামের জন্য গরুগুলো ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। আশা করি ভালো দাম পাবো।
লোকোমোটিভ মাস্টার আবু নিদাল বলেন, আমি গত বছর ক্যাটল টেনে করে গরু ঢাকায় নিয়ে গিয়েছি, আবারও এসেছি। সকাল থেকেই কৃষকদের দেখছি তারা অনেক আনন্দিত। আশা করছি আজ রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছাতে পারবো।
ইসলামপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম বলেন, গরুগুলোকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমাদের একটি টিম স্টেশনে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো গরু অসুস্থ হয়নি। তারপরও আমরা গরুগুলোকে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছি।
এ বিষয়ে ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া বলেন, গত এপ্রিল মাসের ২১ তারিখ থেকে ক্যাটল ট্রেনগুলোর বুকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর মাত্র তিন দিনেই সবগুলো ওয়াগন বুকিং হয়ে যায়। এ ট্রেনটিতে প্রায় ৪০০টি ছোট-বড় পশু যাচ্ছে। আমরা প্রতিটি ওয়াগনের জন্য ভাড়া নিচ্ছি ৮ হাজার টাকা। আজ দুপুর থেকে খামারিরা তাদের গরু ট্রেনে উঠানো শুরু করে এবং সকলে নিরাপদে তাদের গরুগুলা উঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত কারো কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা আশা করছি গরুগুলা নিরাপদে ঢাকা পৌঁছাবে।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর