রুশ সেনার কাছে বিক্রি হওয়া যুবকের আকুতি ‘আমাদের বাঁচান’
১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছেন গোপালগঞ্জের তিন যুবক। নির্মাণ কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে নিয়ে গিয়ে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর জন্য রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তারা কঠোর ট্রেনিং ও নির্যাতনের মধ্যে রয়েছেন বলে পরিবারের কাছে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সীতারকুল গ্রামের রনি ফকির। স্থানীয় দালাল রেজা এবং ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার জাবেলে নূর ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে গত ৭ মে তারা রাশিয়ায় যান।
দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর গত ২২ মে রাতে রাশিয়ার একটি নম্বর থেকে রনি ফকির তার স্ত্রী তৃষা মনিকে ফোন করেন। ফোনে তিনি জানান, তার সঙ্গে আরও প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে যুদ্ধের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। তাদের পাসপোর্ট নিয়ে রাখা হয়েছে এবং জামাকাপড় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রনি বলেন, আমাদের পাহাড়ে নিয়ে ট্রেনিং করাচ্ছে। যেকোনো সময় ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধে পাঠিয়ে দেবে। যারা ট্রেনিং ঠিকমতো করতে পারছে না, তাদের মারধর করা হচ্ছে। আমাদের একেকজনকে ২৫ হাজার ডলারের বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। আমরা খুব কষ্টে আছি। খাবারেরও সমস্যা। যে খাবার দেয়, তা অনেকেই খেতে পারছে না। আমাদের যেভাবে হোক বাঁচানোর ব্যবস্থা করো।
ফোনে রনি দাবি করেন, চারপাশে পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্যে তাদের রাখা হয়েছে এবং রাশিয়ান সেনাবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। তাই সেখান থেকে পালানো সম্ভব নয়।
এসময় রনির স্ত্রী তৃষা মনি জানান, ট্রাভেল এজেন্সির মালিক প্রথমে তাদের উদ্ধারের আশ্বাস দিলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
ফোনে রনি বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা কামনা করে বলেন, যেভাবেই হোক আমাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এখন জীবন বাঁচানোই কঠিন হয়ে গেছে।

মাসুদ পারভেজ, গোপালগঞ্জ