ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, বরিশালে মালয়েশিয়ান তরুণী
ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মালয়েশিয়ান তরুণী নূর হিদায়া নূর হিসাম বিয়ের দুই বছর পর এই প্রথম স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছেন। মালয়েশিয়া প্রবাসী ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নাঠৈ গ্রামের বাসিন্দা সুমন ইসলামের হাত ধরে তিনি বাংলাদেশে আসেন।
এই দম্পতির আগমন উপলক্ষে গত মঙ্গলবার রাতে গায়ে হলুদ এবং বুধবার (৩ জুন) দুপুরে প্রবাসীর নাঠৈ গ্রামের বাড়িতে জমকালো বৌ-ভাতের আয়োজন করা হয়। বিদেশি পুত্রবধূকে একনজর দেখার জন্য আশপাশের গ্রামবাসী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ওই বাড়িতে ব্যাপক ভিড় জমান। বাংলাদেশে এসে এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আন্তরিকতায় অত্যন্ত আনন্দিত কনে নূর হিদায়া। তিনি মালয়েশিয়ান ভাষার পাশাপাশি এখন অল্প অল্প বাংলা বলতে পারেন, এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও গাইতে পারেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে ভাগ্যান্বেষণে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান সুমন ইসলাম। পরবর্তীতে সেখানে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার ভানতিং এলাকার তরুণী নুর হিদায়া নুর হিসামের সঙ্গে ফেসবুকে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় এবং ২০২৪ সালে উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে মালয়েশিয়াতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা এতদিন মালয়েশিয়াতেই অবস্থান করছিলেন। এবারের কোরবানির ঈদের দিন সুমন তার স্ত্রীকে নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
প্রবাসী সুমন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার দামানছাড়া এলাকায় ব্যবসা করছেন। বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রীর ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসার এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে মেশার। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই দুই সপ্তাহের ছুটিতে তারা দেশে এসেছেন।
সুমন আরও জানান, তার স্ত্রী পরিবারের সবার সঙ্গে খুব দ্রুত মিশে গেছেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালীন তারা কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করবেন এবং ছুটি শেষে আবার দুজনেই মালয়েশিয়া ফিরে যাবেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, লোকমুখে তিনি জানতে পেরেছেন মালয়েশিয়া থেকে এক তরুণী তার স্বামীর সঙ্গে নাঠৈ গ্রামে এসেছেন এবং তাকে দেখতে স্থানীয় লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন। এই প্রবাসী দম্পতির নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল