লেবুগাছের সঙ্গে শত্রুতা, এক রাতেই উজাড় ২০০ চারার বাগান
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যবরুণ্ডি এলাকায় একটি লেবু বাগানের প্রায় ২০০ চারাগাছ কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পূর্ব বিরোধ ও জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৫ জুন) মানিকগঞ্জ সদর থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগে বলা হয়, মধ্যবরুণ্ডি গ্রামের বাসিন্দা জলি আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম তাদের মালিকানাধীন ২৭ ডিসিমেল জমিতে সম্প্রতি লেবুর চারা রোপণ ও পাটের চাষ করেন। গত ২ জুন ভোরে দুর্বৃত্তরা জমিতে প্রবেশ করে বেশিরভাগ লেবুর চারা কেটে ফেলে এবং পাটের গাছও নষ্ট করে দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ধারাবাহিকতায় এ ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। এতে তাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আমিনুল ইসলাম ওরফে তনু, শরিফ হাজারী, সেলিনা বেগম, আবুল হোসেন, ইন্নত আলীসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ কারণে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষিকাজের আয় দিয়ে তিনি নিজের পড়াশোনার খরচ চালান। লেবুর বাগান থেকে ভবিষ্যতে আয় করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চারাগাছ কেটে দেওয়ায় তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জলি আক্তার অভিযোগ করেন, লেবুর চারা রোপণের আগেও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গাছগুলো কেটে দেওয়ার ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম ওরফে তনু। তিনি জানান, লেবুর চারাগাছ কাটার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং তার ফসলি জমির ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ