জাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্থা করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, থানায় মামলা
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নির্যাতন, অর্থ লুট এবং জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শরীফ মিয়া (২১) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। তার বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পূর্বধলার ত্রিমোহনী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান শরীফ। সেখানে অবস্থানকালে দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আরও একজন যোগ দেয়। অভিযুক্তরা তকে অবরুদ্ধ করে মারধর করে এবং দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরিবারের দাবি, আর্থিক অক্ষমতার কথা জানালে অভিযুক্তরা তার কাছে থাকা নগদ ৪ হাজার ৫৬০ টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ১৫ হাজার টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক ‘শেখ হাসিনা সঠিক ছিলেন’, ‘শেখ হাসিনার সময় ভালো ছিল’, ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল বলেও তাকে বলতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো স্বেচ্ছায় নয় বরং তীব্র শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে চাপের মুখে তাকে এসব রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। যদি কাউকে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করে এ ধরনের বক্তব্য বা স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ঘটনার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমার জানা মতে, শরীফ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নেত্রকোনার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তার পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। তারা ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগী শরীফ মিয়ার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এস. এম ওয়াদুদ, নেত্রকোনা (সদর-পূর্বধলা)