৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগ, থানাকে আমলে নেওয়ার নির্দেশ
বগুড়ায় একটি পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদকসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট থানাকে আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. তানভীর আলম অভিযোগটি করেন। শুনানি শেষে আদালত তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দেন।
মামলার বিবাদীরা হলেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস।
অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে “সাংবাদিক ছিলেন দাবি করে এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন ‘রাস্তাকাণ্ডে’ বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচার করা হয়। এ ছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী মো. তানভীর আলম তার আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের দাবি করা হয়েছে। বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে এবং এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আতিকুর রহমান সোহাগ, বগুড়া