এক যুগ পর সড়ক সংস্কার, শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পরানপুর-বলশিদ-বাদিয়া গ্রামীণ পাকা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাজ শুরু হতে না হতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, আগের তুলনায় সড়কটি সরু বা প্রস্থ কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া সংস্কার কাজে পুরোনো ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহরাস্তি রেল স্টেশন সংলগ্ন পরানপুর-বলশিদ-বাদিয়া সড়কটি এলাকার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। ২০১৪ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রেল স্টেশন রোড সংলগ্ন পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছে। প্রায় ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওমর ফারুক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, আগে এই সড়কের প্রস্থ ছিল প্রায় ১০ ফুট। কিন্তু এখন সংস্কারের নামে তা সাড়ে ৮ ফুটে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজে পুরোনো ও নিম্নমানের ইট এবং কার্পেটিংয়ের জন্য নিয়মবহির্ভূত বড় আকারের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
একই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ইজিবাইক চালক মো. জুবায়ের জানান, সড়কটি আগের তুলনায় সরু করা হলে একসঙ্গে দুটি অটোরিকশা পারাপার হতে পারবে না। এতে নিত্যদিন যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার ওমর ফারুক বলেন, শিডিউলে যেভাবে কাজের নির্দেশনা রয়েছে, আমরা ঠিক সেভাবেই কাজ করছি। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।
সড়ক সরু করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে শাহরাস্তি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম বলেন, সড়ক সরু করার অভিযোগটি সঠিক নয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের ওপরের অংশ বিভিন্ন স্থানে ভেঙে বা দেবে গিয়ে প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল, ফলে মানুষের কাছে এখন এমন মনে হতে পারে। কাজ শুরুর সময় স্থানীয়রা এ ধরনের অভিযোগ তোলায় আমি ২৫ দিন কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সড়কটির সংস্কার কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, আগে সড়কটির প্রস্থ ছিল ২ দশমিক ৬৬ মিটার। বর্তমানে এটিকে প্রায় ১৮ ফুট প্রশস্ত করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতেই কাজটি করা হচ্ছে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর