পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীকে আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন ও পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননী ঝুমুর আক্তারকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনি নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঢাকা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এই নির্মম ঘটনার পর অপরাধী জনির গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহত ঝুমুর আক্তার উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকার কাতারপ্রবাসী ইকবালের স্ত্রী। অভিযুক্ত জনি একই ইউনিয়নের এলাহীনগর এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে ঝুমুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জনি দীর্ঘদিন ধরে ঝুমুরের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন। একপর্যায়ে টাকা হারিয়ে ঝুমুর নিঃস্ব হয়ে পড়লে জনি তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন।
সর্বস্ব হারিয়ে গত রোববার বিয়ের দাবিতে জনির বাড়িতে অবস্থান নেন ঝুমুর। সেখানে মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা বাসেদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনি দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করে এখন রাতারাতি বিএনপি নেতা সেজে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। সে দম্ভ করে বলে- এমপি তোদের কী করবে? ঝামেলা করলে টাকা দিয়ে থানা থেকে বের হয়ে আসব। এলাকার লোক দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে যেন মামলা না করি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই, জনির ফাঁসি চাই।
এদিকে শম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান সাবেদ আলী, ইউপি সদস্য শামীম, এজাজ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করার চেষ্টা চালানোর তীব্র অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান সাবেদ আলী নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে ইউপি মেম্বার শামীম অন্যান্য মেম্বারদের নিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শামীম পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঝুমুরের সাথে জনির পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার কথা হয়েছে। তবে এটি আইনবহির্ভূত কি না- এমন প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও গণমাধ্যমের কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি নিউজ করে কী করবেন, কইরেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে এই ঘটনায় কোনো ধরনের আপস বা বেআইনি সমঝোতার সুযোগ নেই।

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)