আমিরাতে তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ এনেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সোমবারের (৪ মে) এই হামলায় ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং অন্তত তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর এটি আমিরাতে প্রথম বড় হামলা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেন। খবর আল জাজিরার।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দিনভর ইরান থেকে ছোড়া ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩টি ক্রুজ মিসাইল এবং ৪টি ড্রোন প্রতিরোধ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে উসকানিবিহীন সন্ত্রাসী আক্রমণ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বে কোনো হুমকি সহ্য করা হবে না। তবে ইরান অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেওয়া জাহাজগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন বাহিনী হরমুজে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
এর আগে আবুধাবি জাতীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে।
আমিরাতের এক শীর্ষ উপদেষ্টা এই ঘটনাকে সামুদ্রিক জলদস্যুতা বলে আখ্যা দেন, যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফুজাইরাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুজাইরাহ পেট্রোলিয়াম শিল্প অঞ্চল এলাকায় একটি ড্রোন হামলার পর বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনজন ভারতীয় নাগরিক মাঝারি মাত্রায় আহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
পরিস্থিতির কারণে আমিরাত সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক