৬০ বছর আগের ‘রহস্য’ আবার আলোচনায়
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও রহস্যময় গণ-ইউএফও দেখার ঘটনার ৬০ বছর পূর্ণ হলো, যা আজও দেশটির জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ১৯৬৬ সালের ৬ এপ্রিল মেলবোর্নের ওয়েস্টল হাই স্কুল এবং সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আকাশে শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এক অদ্ভুত উড়ন্ত বস্তু প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন তানিয়া ভাসি জানান, সেদিন আকাশ পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও একটি দুই তলা বিশিষ্ট গোলাকার ডিস্ক ভাসতে দেখেছিলেন, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে দিক পরিবর্তন করছিল। তার চিৎকারে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যখন বাইরে বেরিয়ে আসেন, তখন অনেকেই আকাশজুড়ে রূপালি রঙের ডিম্বাকৃতি এক বা একাধিক বস্তুর অবিশ্বাস্য গতিবিধি দেখে বিস্মিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন : ট্যাম্পের সঙ্গে বৈঠক শুরু, শি জিনপিংয়ের তিন প্রশ্ন
আরও পড়ুন : যুদ্ধের সময় কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন নেতানিয়াহু, যা জানা গেল
তৎকালীন প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বস্তুটি ছিল প্রায় দুই থেকে তিনটি গাড়ির সমান বড়। এর মাঝখানে একটি গম্বুজ সদৃশ অংশ ছিল। কিছু শিক্ষার্থী দাবি করেছিলেন, উড়ন্ত যানটি স্কুলের পাশের একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকায় মাটির খুব কাছাকাছি নেমে এসেছিল। সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর ঘাসের ওপর একটি গোলাকার পেঁচানো ছাপ রেখে গিয়েছিল।
তবে এই ঘটনার পরপরই শুরু হয় রহস্যজনক রাখঢাক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার আধ ঘণ্টার মধ্যেই ইউনিফর্ম পরা কিছু লোক সেখানে হাজির হন। পরবর্তীতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেন যেন তারা এ বিষয়ে কোনো কথা না বলে। এমনকি কিছু শিক্ষার্থীকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে এ নিয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ ছয় দশক পার হলেও এই রহস্যের কোনো সুরাহা হয়নি। সরকারি নথিপত্রেও এর কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গবেষক শেন রায়ান প্রায় ১৪২ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়ে দেখেছেন, তাদের দেওয়া বর্ণনায় আজও আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে। কেউ কেউ একে গোপন সামরিক অভিযান বা আবহাওয়া বেলুন বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেও, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা এখন তাদের জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রকৃত সত্য জানার দাবি তুলছেন। ৬০ বছর আগের সেই অমীমাংসিত ঘটনাটি আজও অস্ট্রেলিয়ার আকাশ গবেষণায় এক বড় ধরনের রহস্য হিসেবে টিকে আছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক