ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শুরু, শি জিনপিংয়ের তিন প্রশ্ন
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্ব রাজনীতির অস্থির সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান। খবর আলজাজিরার।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এই বৈঠকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট শি উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্পের সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ক্ষমতার লড়াইয়ের ফাঁদ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে? তিনি আরও প্রশ্ন করেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ কি হাতে হাত মিলিয়ে বিশ্বের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারবে? শি জিনপিংয়ের মতে, এগুলো ইতিহাস ও বর্তমান সময়ের দাবি, যার উত্তর দুই বিশ্বনেতাকে যৌথভাবে লিখতে হবে।
আরও পড়ুন : যুদ্ধের সময় কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন নেতানিয়াহু, যা জানা গেল
আরও পড়ুন : ৬০ বছর আগের ‘রহস্য’ আবার আলোচনায়
শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হিসেবে কাজ করা। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ইরান ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার প্রেক্ষিতে একটি আন্তরিক অভ্যর্থনা আশা করেছিলেন। তবে প্রণালি এখনও পুরোপুরি সচল না হওয়ায় চীনা শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চীন এই সংকটের স্থায়ী সমাধান চায়। তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। কারণ গত সপ্তাহেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফর করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের হাতেও দরকষাকষির অস্ত্র হিসেবে তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রাখার বিষয়টি রয়েছে। চীন যদি ইরান ইস্যুতে কার্যকর সহায়তা করে, তবে ট্রাম্প এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি আরও কমিয়ে আনতে পারেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাথমিক লক্ষ্য চীন সফর থেকে একটি অর্থনৈতিক বিজয় নিয়ে ফেরা, তবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা অর্জনে চীন এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এই জটিল অমীমাংসিত বিষয়গুলো মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৈঠকেই সমাধান হওয়া সম্ভব নয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক