ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জানায়, রাতভর চালানো হামলায় কিয়েভের ছয়টি জেলা এবং আশপাশের আরও ছয়টি এলাকায় আঘাত হানে রুশ বাহিনী।
দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলের বন্দর এবং রেলপথও হামলার লক্ষ্য ছিল। খবর আল জাজিরার।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, কিয়েভের একটি নয়তলা ভবনে হামলার পর উদ্ধার অভিযান চলছিল।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ৬৭০টির বেশি হামলাকারী ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, গতকাল মধ্যরাত থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া আমাদের শহর ও জনপদে এক হাজার ৫৬০টির বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। যারা মনে করে যুদ্ধ শেষের দিকে, এটি তাদের কাজ হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নীরব না থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ বলেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকে থাকতে পারে।
আল জাজিরার কিয়েভ প্রতিনিধি অড্রে ম্যাকআলপাইন জানান, মাত্র ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ড্রোনের সংখ্যার দিক থেকে এটি ছিল যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার অন্যতম বড় হামলা।
এই হামলা এমন সময় হলো, যখন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতা করে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছিলেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুদ্ধ শেষের দিকে যেতে পারে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস উপলক্ষে রেড স্কয়ারে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজের সময় কার্যকর হওয়া সেই যুদ্ধবিরতি উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার (১২ মে) থেকেই আবারও ইউক্রেন ও রাশিয়া দূরপাল্লার ড্রোন হামলা শুরু করে।
এরই মধ্যে ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে রাশিয়ার অবস্থান নরম হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
বুধবার (১৩ মে) মস্কো আবারও দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি আলোচনা শুরু করার আগে ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।
তবে কিয়েভ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক