দুর্ঘটনায় একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে পথে বসছে পরিবারটি
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের জামিরবাড়ী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে একটি পরিবার। নিহত বাবুলাল বিশ্বাস (৪৫) অটোভ্যান চালিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের ভরণপোষণ দিতেন।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আশুকাঠী বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ঢালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাবুলাল বিশ্বাস তার অটোভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় হানিফ পরিবহণের দ্রুতগতির একটি বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত আশুকাঠী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাথা, বুকসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত বাবুলাল বিশ্বাস হারতা ইউনিয়নের জামিরবাড়ী এলাকার মুকুন্দলাল বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে অটোভ্যান চালিয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, বাবুলালের আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত পুরো সংসার। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপনের শঙ্কায় রয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা পরিবারটির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহতের স্বজনরা পরিবারটির পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বড় ছেলে শৈশব বিশ্বাস এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং ছোট ছেলে সম্রাট বিশ্বাস এবার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার মতো কোন সামর্থ্য নেই। তাই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত মা নমিতা বিশ্বাস।
নিহতের স্ত্রী নমিতা বিশ্বাস বলেন, আমার স্বামীই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অটোভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। তার আয়েই আমাদের দুই ছেলের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চলত। হঠাৎ তাকে হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। এখন সংসার কীভাবে চলবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে- সেই চিন্তায় দিন কাটছে। সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা কামনা করছি।
বড় ছেলে শৈশব বিশ্বাস বলেন, বাবা আমাদের পরিবারের ভরসা ছিলেন। তার উপার্জনেই সংসার চলত। বাবাকে হারিয়ে আমরা মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমি চাই, দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আমাদের পরিবারকে সহযোগিতা করা হোক।
ছোট ছেলে সম্রাট বিশ্বাস বলেন, আমার বাবা আর আমাদের মাঝে নেই, এটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাবা আমাদের খুব ভালোবাসতেন। এখন আমরা অনেক অসহায় অবস্থায় আছি। আমি চাই, সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সরকারি বিধি অনুযায়ী সহায়তার বিষয়টি দেখা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

কমল পূলক, বরিশাল (উজিরপুর)