কাতারে ইরানি প্রতিনিধি দল, নতুন পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ লক্ষ্যে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) রাতে পাওয়া খবরে জানা যায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুলনাসের হেম্মাতি দোহায় অবস্থান করছেন। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসান চুক্তির বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। খবর আল জাজিজার।
এই সফরের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি অবশ্যই ‘অর্থবহ’ হতে হবে, অন্যথায় ‘কোনো চুক্তিই হবে না’।
এর কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়ে গেছে। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্যে এখনও অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা স্পষ্ট।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান এখনও হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আলোচনার বড় একটি অংশে আমরা উপসংহারে পৌঁছেছি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে চুক্তি সই এখনই হয়ে যাচ্ছে।
বাঘাই আরও জানান, বর্তমানে আলোচনা মূলত যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কেন্দ্রীভূত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নয়।
বাঘাইয়ের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে- এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর ইরান হুমকিকে ভয় পায় না।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন হয় একটি শক্তিশালী চুক্তি করবে, নয়তো ‘অন্যভাবে’ পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।
রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি শক্ত ভিত্তির প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান নীতিগতভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে সম্মত হয়েছে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
জাপানের নিক্কেই পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা চলবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে সমুদ্র মাইন সরিয়ে ফেলবে এবং সব দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেবে। একই সঙ্গে ট্রানজিট ফি আদায়ও বন্ধ করবে তেহরান। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রতিনিধি দলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা এগোচ্ছে, যা তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সোমবার (২৫ মে) চীন সফরে গেছেন। বেইজিং জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নে সমঝোতা হয়নি।
এদিকে ট্রাম্প নতুন শর্ত হিসেবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব, কাতার, মিসর, জর্ডান, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এই চুক্তিতে সই করতে হবে। অন্যথায় তাদের ‘খারাপ উদ্দেশ্য’ রয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে এবং সম্ভাব্য সমঝোতা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নকে উপেক্ষা করার অভিযোগে এই চুক্তি এখনও ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক