ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ফেনীতে শেষ মুহূর্তে জমেছে পশুর হাট, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে কেনাবেচা

ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ২৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:২৪, ২৭ মে ২০২৬
ফেনীতে শেষ মুহূর্তে জমেছে পশুর হাট, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে কেনাবেচা

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। টানা বৃষ্টি আর কাদামাটির দুর্ভোগ উপেক্ষা করেই ফেনীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাবেচা। জেলার ছোট-বড় সব হাটেই সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। পছন্দের পশু কিনতে ক্রেতারা যেমন এক হাট থেকে অন্য হাটে ছুটছেন, তেমনই কাঙ্ক্ষিত দামের আশায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।

আরো পড়ুন:

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট আলী আজম স্কুল মাঠ এবং দাগনভূঞার সিলোনিয়া বাজারে গিয়ে কোরবানির হাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মুন্সীরহাট আলী আজম স্কুল মাঠের পশুর হাটে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ফেনীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ব্যাপারীরা গরু, ছাগল ও মহিষ নিয়ে এই হাটে এসেছেন। বৃষ্টির কারণে মাঠজুড়ে কাদা থাকলেও ক্রেতাদের উৎসাহে কোনো কমতি ছিল না।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও হাটে মানুষের উপস্থিতি বেশ ভালো। আশা করছি, শেষ মুহূর্তে পশুর আরও ভালো দাম পাব।”

হাটে আসা ক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, “কাদামাটি আর বৃষ্টি থাকলেও কোরবানি তো দিতেই হবে। তাই, বাধ্য হয়েই হাটে এসেছি। বাজারে পশুর সরবরাহ ভালো। আশা করছি, সামর্থ্যের মধ্যেই পছন্দের গরুটি কিনতে পারব।”

দাগনভূঞার সিলোনিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক সড়কের একপাশ জুড়ে বসেছে অস্থায়ী পশুর হাট। সেখানে গরু ও ছাগলের সারি ঘিরে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। হাটের কারণে সড়কে যানবাহন চলাচলেও কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।

সিলোনিয়া হাটের গরু বিক্রেতা মো. শাহ আলম জানান, দুপুরের পর থেকে হাটে ক্রেতার সমাগম বাড়তে শুরু করেছে। তবে, এবার বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট গরু এবং ছাগলের চাহিদা অনেক বেশি। 

ছাগল বিক্রেতা নুরুল ইসলামও একই কথা জানিয়ে বলেন, ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই করছেন এবং মাঝারি দামের পশুর প্রতিই সবার আগ্রহ বেশি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফেনীর ছয়টি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১২৯টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ১১৪টি অস্থায়ী এবং ১৫টি স্থায়ী হাট। অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে ফেনী সদর ও পৌরসভায় ৪২টি, ছাগলনাইয়ায় ১৫টি, ফুলগাজীতে ৭টি, পরশুরামে ৮টি, দাগনভূঞায় ১৯টি এবং সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর এলাকায় ২১টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে।

পশুর হাটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল ইসলাম জানান, কোরবানির হাটগুলোকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও হাটের আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, ছিনতাই কিংবা জাল টাকার লেনদেন না ঘটে।

তিনি আরও জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন, সেজন্য বিভিন্ন ব্যাংকের সহায়তায় পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ ও মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকা/সাহাব উদ্দিন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়