ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৪, ১৭ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৯:৪৫, ১৭ জুন ২০২৬
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর খোঁজে পুরো আবাসিক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

আরো পড়ুন:

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এমন সমালোচনা বিরল। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইসরায়েল ইরান-ঘনিষ্ঠ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘বড্ড দীর্ঘ সময়’ ধরে লড়াই করছে।”

মঙ্গলবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “লেবাননে অনেক মানুষ মারা গেছে। কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার একটি করে আবাসিক ভবন ধসিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ ওইসব ভবনে অনেক মানুষ থাকেন এবং তারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুহূর্তেই ট্রাম্পের এই অভিযোগটি সামনে এলো। বছরের পর বছর ধরে এই দুই নেতার সম্পর্কের মধ্যে নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের একজন প্রধান রাজনৈতিক মিত্র হিসেবেই রয়ে গেছেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, লেবাননে যুদ্ধবিরতি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, তিনি যখন চুক্তিটি নিয়ে কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালায়, যা তার শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিতে ফেলে। এই কারণেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নিয়ে আড়ালে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো উল্লেখ করলেও ট্রাম্প বলেন, “লেবাননের বিষয়ে নেতানিয়াহুর আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে আমাকে ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না, কারণ অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের জন্য তা করেননি যা আমি করেছি।”

এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বক্তব্যের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।

তবে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে ইসরায়েলের বড় কোনো বন্ধু নেই। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ পদক্ষেপ বিশ্বকে নিরাপদ করেছে।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনের বলছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ নেই, যা ইসরায়েলকে তাদের সামরিক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করতে পারে।

ইসরায়েল অন্যান্য দেশের কাছ থেকেও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, বিশেষ করে গাজায় তাদের অভিযানের সময়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। 

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়