ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ইউএনএইচসিআর-এর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছে। জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাহিদা সোবহান
নাহিদা সোবহান |সংগৃহীত

জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারে (ইউএনএইচসিআর) প্রথমবারের মতো নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

বুধবার পাওয়া এক বার্তায় জানানো হয়, জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চার সদস্যবিশিষ্ট এক্সকম ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৫৯ সালে ইউএনএইচসিআর-এর নির্বাহী কমিটির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ কখনো ব্যুরোতে দায়িত্ব পালন করেনি।

এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ মনোনীত হয়। পরে ভিন্ন দু’টি আঞ্চলিক গ্রুপের প্রতিনিধিত্বকারী আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এ মনোনয়নে সমর্থন দেয়।

পরবর্তীকালে নির্বাহী কমিটির ১১০ সদস্যরাষ্ট্রের সকলে রাষ্ট্রদূত সোবহানের মনোনয়ন অনুমোদন করে।

বার্তায় আরো বলা হয়, এ নির্বাচন বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় দেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।

পেশাদার কূটনীতিক নাহিদা সোবহান এর আগে রোম, কলকাতা ও জেনেভায় বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জর্ডানে রাষ্ট্রদূত এবং কানাডায় হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসঙ্ঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন জাতিসঙ্ঘ সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।

বার্তায় বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার বাংলাদেশের জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি, ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা এবং তহবিল সঙ্কটের মধ্যে বৈশ্বিক শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থার এক সঙ্কটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করল।

উল্লেখ্য, মানবিক সহায়তা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ইস্যুতে একে বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রতি অঙ্গীকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : বাসস