তরুণদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা

যখন শাসকগোষ্ঠী জনগণকে খোলাখুলিভাবে শাসন করে, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার জনগণের সাথে দূরত্ব বাড়তেই থাকে এবং এ অবস্থায় সরকার যদি নিজের জাতির উৎপাদিকা শক্তি সংগঠিত করতে না পারে (অর্থাৎ দেশে যদি উচ্চ বেকারত্ব থাকে) তাহলে জনগণ সরকারের পাশে বেশিদিন থাকে না। জনগণের সমর্থন হারিয়ে, জনগণকে মোকাবেলা করার জন্য বিদেশী সরকারের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বিদেশী সরকারগুলো সরকারের এই জনবিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে, দুর্বল এবং অজনপ্রিয় সরকারকে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করে। অর্থাৎ- উচ্চ বেকারত্বের রাষ্ট্রে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার সার্বভৌমত্ব ধরে রাখে না এবং রাখতে পারে না।

সাকিব আলী
বাংলাদেশের জনগণ যখন অত্যাচারে-অবিচারে কোণঠাসা হয়ে পড়ে তখনই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বৈরাচার হটিয়ে জনগণকে উদ্ধার করেছেন। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানদের তারাই পরাজিত করেছেন। শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন আবার তার হাতে গড়া বাকশালের রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছেন। এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র ফিরিয়েছিল আপনাদের পূর্বসূরিরাই। অত্যাচারে জর্জরিত, মুহ্যমান হয়ে, হাসিনার রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে জাতি যখন সম্পূর্ণ পরাজিত, আপনারাই গর্জে উঠেছিলেন। বুকের রক্ত ঝরিয়ে, চোখ, হাত-পা কোরবানি দিয়েছিলেন। পুলিশ আর হাজার হাজার আওয়ামী সন্ত্রাসীর বন্দুকের নির্বিচার গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, আবার ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদার আদলে ঢিল ছুড়ে গেরিলা যুদ্ধ করেছিলেন। অকাতর প্রাণত্যাগ করে আপনারাই দেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে, বীর তরুণদের যুদ্ধসম প্রতিরোধে অভূতপূর্ব বর্ষা বিপ্লব হয়েছিল। হাসিনা পালিয়ে গেলেন। তার সাঙ্গোপাঙ্গরাও পড়িমরি করে পেছনে পেছনে পালালেন। তারা পালালেন কিন্তু বিপ্লবীরা জয়ী হতে পারল না। স্বাধীনতার সময়, এরশাদের পতনের সময়ের মতো ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হলো। হাসিনার রেখে যাওয়া উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা সফল বিপ্লবী নেতাদের সাংবিধানিক বা সামরিক সরকারের মধ্যে বেছে নিতে বললেন। যে সংবিধানের অধীনে হাসিনাকে পদচ্যুত করা অসম্ভব ছিল, অর্থাৎ জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া অসম্ভব ছিল সেই সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের সামরিক নেতৃত্ব আপসহীন অবস্থান নিলেন। কিন্তু কেন সংবিধান বলবৎ রাখা এত দরকারি হয়ে পড়ল? কেন বারবার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা?

সামরিক নেতৃত্ব স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের সবচেয়ে অনুগত রক্ষী। রাষ্ট্র এবং জনগণ মুখোমুখি হয়ে গেলে সে হয় নিজেই শাসক হয় অথবা শাসকগোষ্ঠীর অনুগত বিশ্বস্ত হাতিয়ার হয়। সে কখনোই জনগণের পক্ষে থাকে না। তবে জনগণের নেতৃত্বে, ভবিষ্যৎ শাসকগোষ্ঠীর আলামত দেখলে, আন্তর্জাতিক সমর্থন পেলে, সাময়িকভাবে জনগণের পক্ষে যুদ্ধ করে। সামরিক নেতৃত্ব সবসময়ই প্রতিক্রিয়াশীল, রক্ষণশীল এবং জনগণের ক্ষমতায়ন ঠেকানোর জন্য রাষ্ট্রের শেষ অস্ত্র। তারা সংবিধানের পক্ষে থাকবে এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সংবিধানের পক্ষে গিয়ে তারা কিভাবে জনগণের বিপক্ষে গেলেন? এটি বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে রাষ্ট্রের উৎপত্তির ইতিহাস।

রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে শাসকগোষ্ঠীর জন্য উদ্বৃত্ত তৈরি করার জন্য। এই উদ্বৃত্ত জনগণের পকেট থেকেই যায়। সৎ শাসন দিয়ে জনগণের আয় বাড়ালে সেই আয়ের একটি অংশ শাসকদের দিতে তারা কার্পণ্য করত না। জনগণের আয়ের একটি অংশ বরং ছলচাতুরী ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের পকেটে ভরেন। জনগণকে দমন করার জন্য আইন ব্যবহার করেন এবং নিজেরা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নেন। নিজের সন্তান-সন্ততি, আত্মীয় স্বজনকে শাসকগোষ্ঠীর সদস্য বানান, যাতে পরবর্তী প্রজন্মকে লুটেপুটে আরো ধনী হয়ে ওঠার পথ শেখাতে পারেন। সাথে সাথে নিজেদের দলও ভারী হয়। ভারী দল নিয়ে শাসকের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে যাতে দুর্নীতি করে অর্থ বাগিয়ে নেয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। এরাই বাংলাদেশের ধনকুবের, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ আমলারা। এদের হাতেই সব ক্ষমতা, সম্পদ এবং প্রতিপত্তি যা পূর্ণ ব্যবহার করেন আরো ক্ষমতা, সম্পদ এবং প্রতিপত্তি লাভে। তারা একটি শাসকগোষ্ঠীর সদস্য যেখানে অন্যদের প্রবেশ নিষেধ।

একটি শাসকগোষ্ঠী, একটি সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংগঠিত অপরাধী চক্র। এরা বড় ঋণখেলাপি হয়ে সংসদ সদস্য হতে পারেন যেখানে ছোট ঋণখেলাপিদের জেলে যেতে হয়। এরাই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, জনগণের সম্পদ তছরুপ করেন এবং নিজেদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা রুখে দেন। ক্ষমতাসীন দলের ৬০ শতাংশ সংসদ সদস্য সর্বমোট ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি। এরা সংসদ সদস্য হয়ে নিজেদের ঋণ পরিশোধ না করে ব্যবসায় দুর্নীতি করার ক্ষমতা নিয়ে নিলেন। এদের আয় বেড়েই চলবে। সাধারণ জনগণের নুন আনতে পান্তা ফুরাবে, সে উদ্বৃত্ত পাবে কোথায়। শাসকগোষ্ঠীর এরাই দেশের সব জমি একদিন কিনে নেবে, দেশের সব সম্পদ এদের হাতে চলে যাবে। এ ব্যবস্থা চালানো যাচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধানে ফাঁকি আছে বলেই। রাষ্ট্র শাসকগোষ্ঠীর উদ্বৃত্তের জন্য তৈরি হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যবিলনিয়ান সভ্যতা থেকেই রাষ্ট্রের এ ধর্ম বিদ্যমান আছে। এ বিষয়ে জেমস স্কটের ‘অ্যাগেইন্সট দ্য গ্রেইন’ পড়া যেতে পারে।

বিশ্বে প্রথম লিখিত সংবিধান কর্সিকা দ্বীপের তবে দ্বিতীয় লিখিত সংবিধান হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এর পরে যুক্তরাষ্ট্রের আদলে আরো ৮০০ লিখিত সংবিধান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা গণতন্ত্র চাননি। তারা ধনীদের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন যাতে সরকার ধনীদের মুনাফা আয় নিয়মনীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। তারা বিশ্বাস করতেন, গণতন্ত্র হলে জনগণ ধনীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে নিজেরা নিয়ে নেবে। তাই তারা গণতন্ত্রের পথ আটকালেন প্রজাতন্ত্র বানিয়ে। এ বিষয়ে ক্যামিলা ভারগারার ‘সিস্টেমিক করাপশন’-সংক্রান্ত বইটি দেখতে পারেন।

প্রজাতন্ত্র চলে সংবিধানের নিয়মে। বাংলাদেশের সংবিধান খুলুন। দেখবেন সরকারের ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত লেখা। সরকারের সব ক্ষমতাই আছে; কিন্তু জনগণের কোনো ক্ষমতা নেই। শুধু একটি অধিকার আছে আর সেটি হলো- সরকার যে সময়ে বলবে সে সময়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া। ভোট দেয়ার আগে অক্ষম, ভোট দেয়ার পরেও অক্ষম। আর ভোট দেয়ার সময়েও জনগণের কোনো ক্ষমতা যেন না থাকে, সে জন্য সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ এবং বেইনসাফি ভোটব্যবস্থা করা, ভোটের আগে তাকে প্রচারণার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করা, তার ভোট দানে বাধা দেয়া, তার ভোট না গোনা- এসবই শাসকগোষ্ঠীর (নির্বাচন কমিশনের আসল কাজ) কৌশল। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই ৮০-৯০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তন চায় কিন্তু পরিবর্তন করতে পারে না, কেন? কারণ লিখিত সংবিধানের কাজই হলো সব মৌলিক পরিবর্তনকে অসম্ভব করা। অর্থাৎ- রাষ্ট্রকে শাসকগোষ্ঠীর উদ্বৃত্ত তৈরির কারখানা করতে হলে, অর্থাৎ- জনগণকে বঞ্চিত করতে হলে লিখিত সংবিধানের কোনো বিকল্প নেই।

এসব অপ্রিয় কথা বলতে হচ্ছে কারণ সরকার, বিরোধী দল, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, শিল্পকলা, সুশীলসমাজ- সবাই আপনাদের ধারণা দিচ্ছে, দেশের অবস্থা স্বাভাবিক এবং আপনি যদি খাপ খাইয়ে নিতে না পারেন, সেটি আপনার সমস্যা। হাসিনার সময়ে যারা লুটেপুটে খেত তারাও এ কথা বলত। কিন্তু আমাদের সমাজে নেতারা জনগণকে দরিদ্র করে এবং করে রাখে। যারা রক্ষক তারাই ভক্ষক। বয়স্করা তরুণদের বঞ্চিত করে। সমাজ মানুষকে পণ্য বানায়। আপনি যদি পণ্য কিনতে না পারেন অথবা উৎপাদনের উপাদান হতে না পারেন তাহলে আপনার কোনো মূল্য নেই। আপনার আত্মার কোনো দাম নেই, আপনার অনুভূতির কোনো দাম নেই। এ সমাজ মানবতা বোঝে না, লেনদেন বোঝে। মনে রাখতে হবে- আল্লাহ কিন্তু বিনামূল্যেই পানি, মাটি, খাবার দিয়েছেন; শাসকগোষ্ঠী সেই পানি, মাটি এবং খাবার শক্তি প্রয়োগ করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জনগণকে ঠকিয়ে নিজে ধনী এবং সুখী হতে চায়। এরাই সমাজ অধিপতি। এরাই সবার সম্মান পায়। এভাবেই অশুভ জয়ী হয়েছে, শুভ পরাজিত হয়েছে বারবার। সমাজে লেনদেন লাগে কিন্তু সমাজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান না; সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা এবং ঐক্যও লাগে। সমাজে এ ভালোবাসাগুলো নেই বলে এ সমাজ অসুস্থ। অসুস্থ সমাজে যে অভ্যস্ত সেও অসুস্থ। যদি কেউ সুস্থ থাকে সেটি হচ্ছেন আপনারা এবং এ জন্য আপনাদেরই বলছি।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২ থেকে ২৫ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। বছরে দেশে চার-পাঁচ লাখের বেশি চাকরি তৈরি হয় বলে মনে হয় না। যে চাকরি হয় সেগুলোতে উদ্বৃত্ত হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। ভালো চাকরি পেতে হলে বিদেশে যাওয়া ছাড়া উপায় কী? সরকারি চাকরিতে যেতে পারলে এবং উপরি আয় থাকলে অবশ্য শাসকগোষ্ঠীর জুনিয়র সদস্য হওয়া গেল। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর আনুকূল্য না পেয়ে বাংলাদেশে থাকলে, পরিবার করলে, উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও সচ্ছলতার মুখ দেখা কঠিন হবে। বিদেশীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের ঋণ ১২ লাখ কোটি টাকা যার তিন-চতুর্থাংশ করেছে আগের সরকারের সদস্যরা এবং তাদের সহযোগী ধনকুবেররা। এই ঋণ শোধ করবে জনগণ। ব্যাংকে খেলাপি ঋণ আছে ছয় লাখ কোটি। শোধ করবে জনগণ। সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ কোটি টাকা। শাসকগোষ্ঠীর এই চুরির ঘানি টানতে জনগণকে আয়ের ২০ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে। যে জনগণের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাকেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এই হচ্ছে ইনসাফের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

যেহেতু সরকারের অনেক ঋণ হয়ে গেছে তাই সুদ-আসল পরিশোধে এক লাখ কোটি টাকার উপরে যাচ্ছে। ফলে সরকারি বিনিয়োগ কমবে। ফলে প্রবৃদ্ধি কমবে। তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান হবে না। সরকার, ব্যাংক, শেয়ারমার্কেট দুর্নীতিগ্রস্ত, ফলে এদের প্রতি কোনো আস্থা নেই। সরকারও দুর্নীতি সরাতে পারবে না, আর আস্থাও আসবে না। আস্থা না থাকলে বিনিয়োগও হবে না, আর বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থানও হবে না।

যখন শাসকগোষ্ঠী জনগণকে খোলাখুলিভাবে শাসন করে, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার জনগণের সাথে দূরত্ব বাড়তেই থাকে এবং এ অবস্থায় সরকার যদি নিজের জাতির উৎপাদিকা শক্তি সংগঠিত করতে না পারে (অর্থাৎ দেশে যদি উচ্চ বেকারত্ব থাকে) তাহলে জনগণ সরকারের পাশে বেশিদিন থাকে না। জনগণের সমর্থন হারিয়ে, জনগণকে মোকাবেলা করার জন্য বিদেশী সরকারের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বিদেশী সরকারগুলো সরকারের এই জনবিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে, দুর্বল এবং অজনপ্রিয় সরকারকে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করে। অর্থাৎ- উচ্চ বেকারত্বের রাষ্ট্রে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার সার্বভৌমত্ব ধরে রাখে না এবং রাখতে পারে না।

এই লেখার উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র, শাসকগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ব্যবস্থা যে অস্বাভাবিক এবং ভয়ঙ্কর সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, আমলাতন্ত্র দুর্নীতির ঘুণে অন্তঃসারশূন্য হয়ে ফাঁপা হয়ে গেছে। আমরা যদি একবার বুঝতে পারি যে রাষ্ট্র, সরকার এবং অর্থনীতি জনগণের বিরোধী তাহলে একদিন না একদিন জনগণের রাষ্ট্র বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবেই। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, এ বিষয়গুলো নিয়ে আপনারা আলোচনা করবেন, প্রশ্ন করবেন এবং ইচ্ছা করলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আশা করি আপনারা বিপ্লবী হবেন, কারণ আপনারা বিপ্লবী না হলে বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।হ

লেখক : সাবেক কূটনীতিক