আমরা ভারত, আমেরিকা বা চায়নার পক্ষে না : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘আমরা ভারতের পক্ষেও না, আমেরিকার পক্ষেও না, চায়নার পক্ষেও না—আমরা কেবল বাংলাদেশের পক্ষে।’ আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বোনচৌকি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদিমুল ইসলামের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান সরকার এবং রাষ্ট্র সীমান্তের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার নিরাপত্তা দেয় সন্ত্রাসীদের। যে যত বড় সন্ত্রাসী কিংবা চাঁদাবাজ, তাকে ততো বড় নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এই নিরাপত্তা দিয়ে মূলত সরকার সাপ পুষছে।’ তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সীমান্তের মানুষদের সঠিক নিরাপত্তা দিতো, তবে ভারত এভাবে বাংলাদেশের মানুষকে পাখির মতো হত্যা করতে পারতো না। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিকালীন সময়ে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষদের বর্ডারে হত্যা করে যাচ্ছে ভারত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সীমান্ত সুরক্ষা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে হবে। বিজিবিকে শক্তিশালী করতে পারলে ভারত থেকে যেমন অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাবে, তেমনি বর্ডারে বাংলাদেশিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞও রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এনসিপি যদি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে পারে, তবে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে এমন কঠোর আইন তৈরি করা হবে, যাতে ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশিদের ওপর অত্যাচার করতে না পারে।
গত ১৪ মে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক খাদেমুল ইসলাম (২৫) রাতে নদীতে মাছ ধরতে গেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত খাদিমুলের মা লায়লী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। আজ নিহত খাদিমুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার এবং সংগঠক রাসেল আহমেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসান মাহমুদ, লালমনিরহাট (কালীগঞ্জ-হাতীবান্ধা)