কোরবানির বিশেষ আকর্ষণ ৪৩ মণের ‘ঈশা খাঁ’
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নেত্রকোনার বিভিন্ন খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানির পশু। রাসায়নিক ও ভেজালমুক্ত খাদ্যে লালন-পালন করায় স্থানীয় ও বাইরের ক্রেতাদের কাছে এসব পশুর চাহিদা এখন তুঙ্গে।
খামারি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার দেশি গরুর পাশাপাশি নেত্রকোনা সদর উপজেলার ফচিকা গ্রামে উন্নত জাতের শাহীওয়াল, গীর, নেপালি ও ফ্রিজিয়ান জাতের বাহারি গরুর সমাহার ঘটেছে। তবে জেলাজুড়ে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সদর উপজেলার কৃষক খায়রুল মেম্বারের খামারের ‘ঈশা খাঁ’ নামের একটি ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়।
কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১৭২০ কেজি (৪৩ মণ)। ৬ ফুট উচ্চতা এবং ৯ ফুট লম্বা এই দানবীয় ষাঁড়টিকে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪০০ টাকার খাবার খাইয়ে কোরবানির উপযোগী করা হয়েছে। গত বছর এই ঈশা খাঁর দাম হাঁকা হয়েছিল সাড়ে নয় লাখ টাকা। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন।
ঈশা খাঁর মালিক খাইরুল মেম্বার জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, ভুসি ও ঘাস খাইয়ে পরম যত্নে তিনি ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। এবার ঈদে তিনি পশুটির ভালো দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার খামার ও সাধারণ কৃষকের ঘরে এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৮টি গরু, ছাগল ও মহিষসহ বিভিন্ন গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বিপরীতে জেলায় পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার। ফলে চাহিদার চেয়েও প্রায় ১২ হাজার অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলায় এবার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। ১০টি উপজেলায় ১১৩টি পশুর হাট বসেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই সেখানে বেচাকেনা চলছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি, যাতে ক্রেতারা সুস্থ-সবল পশু কোরবানির জন্য কিনতে পারেন।

ভজন দাস, নেত্রকোনা