৪০ মণ ওজন ও ৬ ফুট উচ্চতার ‘সাদা সুলতান’ ঘিরে কৌতূহল
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটের পাশাপাশি পাবনার বিভিন্ন খামারে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু বিক্রি। এরই মধ্যে পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের প্রবাসী খামারি ফারুক হোসেন সরদারের খামারের একটি বিশাল আকৃতির গরু স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। ব্যতিক্রমী গড়ন ও দৃষ্টিনন্দন দুধসাদা রঙের কারণে গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘সাদা সুলতান’, যা ঘিরে এখন এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
খামারি ফারুক হোসেন সরদার জানান, নিজের বাড়ির গাভীর পেটে জন্ম নেওয়া এই সাদা বাছুরটিকে সাড়ে চার বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে। ছয় দাঁতের এই গরুটির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। বর্তমানে এর আনুমানিক ওজন প্রায় ৪০ মণ। বিশাল আকৃতির এই ‘সাদা সুলতান’র দাম খামারি হাঁকছেন ১৫ লাখ টাকা।
খামারি ফারুক হোসেন সরদার আরও বলেন, এটা শুধু একটা গরু না, আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো লালন করেছি। তাই বিক্রির কথা ভাবলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। তবে ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে সামনে আবারও এমন বড় গরু লালন-পালন করার উৎসাহ পাবো। আর ন্যায্য দাম না পেলে এত বড় গরু আর তৈরি করব না।
ফারুক হোসেন বলেন, কোনো ধরনের কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা না করে সম্পূর্ণ উন্নত দেশীয় খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। বিশাল এই গরুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ফারুকের খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
খামারির স্ত্রী বলেন, গরুটাকে খুব কষ্ট, মায়া আর ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি। বিক্রি হয়ে গেলে ভীষণ খারাপ লাগবে, কিন্তু কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তো আমাদের এত আয়োজন। এর পেছনে খরচও হয়েছে অনেক। তাই এখন ভালো দামে বিক্রি করাটা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাবনা অঞ্চলে সাধারণত এত বড় ও আকর্ষণীয় গরু খুব একটা দেখা যায় না। এমন দানবীয় আকৃতির গরু তারা জীবনেও দেখেননি। ‘সাদা সুলতান’-কে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনা (সদর-আটঘরিয়া-সুজানগর-আতাইকুলা)