সাতক্ষীরায় কারাবন্দি সাবেক আইনজীবীর মৃত্যু
সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, গতকাল রোববার (২৪ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে আব্দুল লতিফকে তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৪টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ত্রিদিব দেবনাথ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন সাবেক এই পিপি ও আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মৃত আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়শা গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি নিযুক্ত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে ৮টি হত্যা ও নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে এবং তার ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, রসুলপুর এলাকায় অবস্থিত তার পাঁচতলা ভবনের কয়েকটি অবশিষ্ট ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকদের খুলনায় ডেকেছিলেন তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি আদালতের নির্দেশে কারাগারে বন্দি ছিলেন।

এস এম জিন্নাহ, সাতক্ষীরা