হত্যা মামলার দুই আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা-থানা ঘেরাও, গ্রেপ্তার ৭
মাদারীপুর সদর থানায় গ্রেপ্তার হওয়া হত্যা মামলার দুই আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও সাত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাতে শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর এ ঘটনা ঘটে। পরে আসামিপক্ষের লোকজন থানা ঘেরাও ও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের বাদামতলা এলাকার সবুজকে একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে নতুন মাদারীপুর এলাকার আরিফ চৌকিদারকেও গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয় সদর থানা পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আরিফ চৌকিদারের বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট দেখতে চান। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে পুলিশ গ্রেপ্তার দুজনকে সদর থানায় নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আটক ব্যক্তিদের স্বজন ও সমর্থকরা সদর থানায় জড়ো হয়ে আসামিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে থানার সামনে থেকে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শান্ত ঢালী (২০), সালমান ঢালী (১৯), আবির ঢালী (১৯), আজিম ঢালী (১৮) ও সাহেব বেপারী (১৭)। বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি। তাদের সবার বাড়ি নতুন মাদারীপুর এলাকায়।
এদিকে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পুরো থানা এলাকাকে নিরাপত্তার বেষ্টনীতে ঢেকে ফেলা হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকাটিতে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, তিন মাস আগে ডিস ব্যবসায়ী আলমগীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ওই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মাদারীপুর সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে আরিফ ও সবুজ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে পরবর্তীতে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর