ক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের গাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে আগুন এবং তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল সোমবার বিকেল থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ সকালে ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহের সন্ধান মেলে।
হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির চাচা (প্রতিবেশী) বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে। তবে আটকের পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ অভিযুক্ত বিধানের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তারা স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। অভিযুক্ত বিধানকে নিয়ে ফিরে আসার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ভুট্টাক্ষেতে শিশুটির মরদেহ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনগণ বাধা দেয়। পরে বিজিবি ও বিপুল পুলিশ সদস্য নিয়ে আমরা সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে আসামিকে নিয়ে আসার সময় অতর্কিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে এ ঘটনায় একটি মামলা করা হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মামুনুর রশিদ, লালমনিরহাট (সদর-আদিতমারী)