ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মধ্যেই তাইওয়ান ইস্যুতে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি শির
প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেইজিং সফরের শুরুতেই তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত শীর্ষ বৈঠকের শুরুতেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত দুই দেশকে সরাসরি ‘সংঘর্ষের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত উষ্ণতার সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন। শি জিনপিংকে একজন ‘মহান নেতা’ ও ‘বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দুই দেশের জন্য একটি ‘চমৎকার ভবিষ্যতের’ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে। তবে এর বিপরীতে শি জিনপিংয়ের কণ্ঠে ছিল কিছুটা কঠোর সুর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া। বিশেষ করে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করা স্বশাসিত তাইওয়ান ইস্যুটিকে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন : যুদ্ধের সময় কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন নেতানিয়াহু, যা জানা গেল
আরও পড়ুন : ৬০ বছর আগের ‘রহস্য’ আবার আলোচনায়
শি জিনপিং প্রাচীন গ্রীক রাজনৈতিক তত্ত্ব ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপের’ প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি ক্ষমতার লড়াইয়ের এই ফাঁদ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে? তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক। অন্যদিকে সংঘাত দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।
গতবছরের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তোজনার পর এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চলমান ইরান যুদ্ধ এবারের আলোচনার টেবিলে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে চীনের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই বলে দাবি করলেও, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পারস্য উপসাগরে ইরানের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে চীনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন : দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত গাড়ি, অথচ মামলার টোকেন এলো ‘হাই স্পিডে’ চালানোর
আরও পড়ুন : নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রুবিও কীভাবে চীনে আছেন
ট্রাম্পের এই সফরে তার সঙ্গে ইলন মাস্ক ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ীরাও বেইজিংয়ে উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও বিমান খাতের ব্যবসায়িক চুক্তি এবং গত বছর থেকে চলা পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ বা শুল্ক যুদ্ধের সমাধান খোঁজা। দুই নেতা গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় করা এক বছরের শুল্ক বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করবেন।
উল্লেখ্য, দিনের কর্মসূচি শেষে ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি ঐতিহ্যবাহী ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন করেন। তবে তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো এই সফরের সাফল্যে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক