পাহাড়, হাওর ও চা বাগানের শ্রীমঙ্গল পর্যটক বরণে প্রস্তুত
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পর্যটক বরণে প্রস্তুত। পাহাড়, হাওর ও চা বাগানের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে শুক্রবার (১৯ মে) থেকে এখানে পর্যটকরা আসতে শুরু করবেন এমনটি আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, মোটেল ও রির্সোট প্রস্তুত করা হয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেল-রিসোর্টগুলো সাজানো হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের অফারও। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অনেক হোটেলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটনকদের জন্য জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে রয়েছে মনিপুরীদের তাঁতে বুনা কাপড়ের দোকান। আছে বিভিন্ন মানের চা পাতা আর দৃষ্টিনন্দন শোপিসের দোকান।
কথা হলে শ্রীমঙ্গলের রাধানগরের ব্যবসায়ী আহমদ বলেন, “বৃষ্টি ও হামের প্রাদুর্ভাবে আমাদের ব্যবসায় মান্দাভাব বিরাজ করছে। ঈদের সময় পর্যটকের
আগমনে ব্যবসা ভালো হবে।”
চা পাতা বিক্রেতা মো. আব্দুল আলী বলেন, “আমাদের ব্যবসাই পর্যটক কেন্দ্রীক। আমরা আশাবাদী ঈদের ছুটিতে অনেক পর্যটক আসবেন। তখন পণ্য বেচাকেনা বাড়বে।”
মণিপুরি কাপড়ের দোকানি ঋতি সিনহা বলেন, “পর্যটকদের আগমন কম থাকায় ব্যবসায়ে ভাটা পড়েছে। ঈদকে ঘিরে দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকরা এলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া
যাবে।”
গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, “ঈদের সময় বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন। আমাদের বুকিং চলছে।”
জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার টিলাগাও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমদ জানান, টুরিস্টদের কথা চিন্তা করে আমরা নতুন করে সববিছু সাজিয়েছি। আমাদের এখানে রয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এটা বাংলাদেশের অন্যান্য ইকো ভিলেজের চেয়ে পুরোটাই ব্যতিক্রম। আমাদের প্রায় ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের হিসাবরক্ষক কাম প্রশাসনিক সহকারী মো.আফজালুল হক বলেন, “লাউছড়ায় টুরিস্টেদের আনাগোনা কম ছিল। ঈদের সময় পর্যটকদের ঢল নামবে আমরা এমনটি আশা করছি।”
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন ও পর্যটন পুলিশ।”
ঢাকা/আজিজ/মাসুদ