আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় এবার কোরবানীর পশুর সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি থাকায় এবার দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকার আশা করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগে এবার ১০ দশমিক ৭৯ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৪ দশমিক ৪৭ লাখ কোরবানির পশু রয়েছে।
এদিকে, পর পর তিনবার টেন্ডার আহ্বান করেও কোন সাড়া না পাওয়ায় বরাবরের মতো এবারও জোরাগেট পশুর হাট পরিচালনা করবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)।
জানতে চাইলে খুলনা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের (ডিওএলএস) পরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হায়দার বলেন, 'এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১০ দশমিক ৭৯ লাখ, যেখানে গত বছর ছিল প্রায় ৮ দশমিক ২৯ লাখ। কিন্তু চলতি বছর পবিত্র ঈদ-উল-আজহার আগে কোরবানির পশুর দাম কমানোর জন্য ১৪ দশমিক ৪৬ লক্ষ পশু প্রস্তুত রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এখন স্থানীয় পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কারণ বিভাগে মোট ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৬০টি উদ্বৃত্ত পশু থাকবে, যা চাহিদার চেয়ে ৭৪ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।'
যেহেতু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত, তাই দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন গোলাম হায়দার।
‘ঈদ-উল-আজহার আগেই বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটে বিপুল পরিমাণে কোরবানির পশু আনা হবে। ফলে খুলনার চাহিদা মেটাতে অন্য দেশ থেকে পশু আমদানি করার কোনো প্রয়োজন নেই’ বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভাগের ১০ জেলায় ১০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৪৯টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৬০টি উদ্বৃত্ত রেখে মোট ১৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮০৯টি কোরবানির পশু স্থানীয় ভাবে পালন করা হয়েছে।
এ বছরের কোরবানির পশুগুলোর মধ্যে রয়েছে- ষাঁড় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৪২৭টি, বলদ ৩২ হাজার ২৭টি, গরু ৮২ হাজার ৩০২টি, মহিষ ৪ হাজার ৮৯টি, ছাগল ৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৭০টি, ভেড়া ৫১ হাজার ১৭৩টি এবং অন্যান্য ২১৬টি।
রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামের খামার মালিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, 'পশুখাদ্যের দাম বাড়ার কারণে এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে।'
ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক মো. দিদারুল আলম বলেন, 'প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে সাতটি দেশি গরু পালন করেছি। পশুগুলোকে সুস্থ এবং ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছি।'
লিয়াকত হোসেন নামে আরেকজন কৃষক তাঁর পারিবারিক পশুপালনের ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন এবং পরে টিপনা গ্রামে তাঁর ভাইদের সাথে ৮ কাঠা জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁদের খামারে এখন গরুর পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ছাগলও রয়েছে।
এদিকে, খুলনা বিভাগের বেশ কিছু জেলায় গবাদি পশুর হাট বসতে শুরু করেছে, যদিও ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা বলছেন, আরও এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশুর হাটের জন্য তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করেও সাড়া পায়নি কেসিসি
খুলনার জোড়াগেটে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও কোনো ঠিকাদার অংশ নেননি। ফলে ৪র্থ ও শেষ দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সোমবার টেন্ডার ওপেন করা হবে। সেখানে কেউ অংশ না নিলে নিয়ম অনুযায়ী হাট পরিচালনার দায়িত্ব নেবে কেসিসি। গত বছর কোরবানীর পশুর হাট পরিচালনা করে কেসিসি ২ কোটি ৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোরবানির হাট পরিচালনার জন্য গত ১২ মার্চ প্রথম দফায় টেন্ডারের আহ্বান করে কেসিসি। তখন এ টেন্ডারের ব্যাপারে কেউ কোনো সাড়া না দেওয়ায় পরবর্তীতে ৩১ মার্চ ও ৯ এপ্রিল আবারও টেন্ডারের আহ্বান করে। কিন্তু তখনও কেউ সাড়া না দেওয়া পরবর্তীতে আবার ২৩ এপ্রিল পত্রিকায় টেন্ডারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো ঠিকাদার এ টেন্ডার আহ্বানে সাড়া দেননি। সোমবার টেন্ডার ওপেনিংয়ের দিন ধার্য রয়েছে। যদি কেউ অংশ না নেয় তাহলে সিটি কর্পোরেশন নিজেই হাট পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
জানতে চাইলে কেসিসির বাজার শাখা কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, ''কোরবানির পশুর হাটের দর ওঠানো হয়েছে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিনবার আহ্বান করা হয়েছে। কোনো সাড়া মেলেনি। চতুর্থ বার ডাকা হয়। সোমবার টেন্ডার ওপেনিংয়ের দিন ধার্য রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'যদি কোনো ঠিকাদার অংশ না নেন তাহলে হাট পরিচালনারা দায়িত্ব নেবে সিটি কর্পোরেশন। গত বছরও টেন্ডার আহ্বান করা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। ফলে কেসিসি দায়িত্ব নিয়ে হাট পরিচালনা করে দুই কোটি সাত লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছিল। গত বছরে হাসিলের পরিমাণ ছিল ৪ শতাংশ। এবারও হাসিলের পরিমাণ একই থাকবে।'
তিনি আরও বলেন, 'হাটে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পশু ও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য রাখা হবে মেডিকেল টিম। হাটে এসে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন সে জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর জোর টহল থাকবে।'
এছাড়া, নকল টাকা প্রতিরোধে থাকবে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ। এক সপ্তাহ আগে থেকে হাট শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যে হাট পরিচালনা করার জন্য কেসিসি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা খাতুন বুশরাকে আহ্বায়ক ও বাজার শাখার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদারকে সদস্য সচিব করে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এমএ