সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভেজাল কীটনাশক কারখানার মালিক মো. হারিজ উদ্দিনকে এক মাসের কারাদণ্ড ও দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে টাস্কফোর্স। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মশিপুর উল্টরপাড়ায় ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. সোহেল শেখ।
পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন উপস্থিত হয়ে কারখানা মালিক মো. হারিজ উদ্দিনকে এক মাসের কারাদণ্ড ও দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান চলাকালে হারিজ এগ্রো কেয়ার নামের ওই কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভেজাল ও নকল কীটনাশক এবং মোড়ক জব্দ করা হয়।
সাজাপ্রাপ্ত হারিজ উদ্দিন উপজেলার মশিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযানে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন কোম্পানির ২৮ থেকে ৩০টি ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত বিপুল পরিমাণ ভেজাল কীটনাশক ও কীটনাশক তৈরি বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং খালি মোড়ক। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। এছাড়াও তাদের মালিকানাধীন হারিজ এগ্রো কেয়ারের উৎপাদনের ঠিকানা দেয়া আছে গাজীপুর। কিন্তু সেই পণ্য অনুমোদনহীন এই গোপন কারখানায় সাধারণ শ্রমিকের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছিল।
এলাকাবাসী জানান, লোকচক্ষুর আড়ালে প্রায় ১ যুগ ধরে রাতের অন্ধকারে এখানে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করা হচ্ছে। কারখানা এমন ভাবে বন্ধ থাকে যেন বাইরে থেকে মনে হয় এই ভবন পরিত্যক্ত রয়েছে। এছাড়াও এই উৎপাদিত ভেজাল কীটনাশক তালগাছি বাজারে অবস্থিত তাদের দোকান হারিজ বীজ ভান্ডারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। তাদের কারণে দেশের প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, আর তারা রাতারাতি হয়ে যাচ্ছেন কোটিপতি।
অভিযান শেষে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, 'দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে প্রায় ২৮টি ব্র্যান্ডের ভেজাল কীটনাশক তৈরি হয়ে আসছে। টাস্কফোর্সের অভিযানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার ভেজাল কীটনাশক তৈরির কাঁচামাল, উৎপাদিত ভেজাল কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। সেই সাথে এই কারখানার মালিক হারিজ উদ্দিনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জেরিন আহমেদ, র্যাব- ১২ এর একটি দল ও শাহজাদপুর থানার পুলিশ সদস্যরা।
এসবি/এমএ