প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো জনতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চা-বাগান থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখর হয়ে উঠেছে।
বুধবার শ্রীমঙ্গলে তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মৌলভীবাজার সদরে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া বিকেলে মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম মৌলভীবাজার সফর। এ সফরকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজযোগে সিলেট পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে দুপুর ১টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত রাজনৈতিক সভায় যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ প্রহর গুনছেন। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সাধারণ মানুষ ও বিপুল সংখ্যক চা শ্রমিকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
দুপুর ১টার দিকে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১৫৫ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত ১৫৫টি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকী ভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ জন রোগীকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য পাঁচ জনকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষা সহায়তা এবং চা-শ্রমিকদের টেকসই আবাসন নির্মাণের জন্য পাঁচ জনকে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
পাশাপাশি দুঃস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীনদের জন্য বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন উপকারভোগীর মাঝে ১০ হাজার টাকা করে চেক বিতরণ করা হবে।
আরএ/এমএ