বোনাস শেয়ার ও পুঞ্জীভূত মুনাফার ওপর প্রস্তাবিত কর আরোপ দেশের শেয়ারবাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
বুধবার রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে অবস্থিত ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ওআইআরডির চেয়ারম্যান এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।
ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, দেশের শেয়ারবাজার বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে। এ অবস্থায় বোনাস শেয়ার ও পুঞ্জীভূত মুনাফার ওপর নতুন করে কর আরোপ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে লভ্যাংশের ওপর কার্যত দ্বৈত করের চাপ রয়েছে। প্রথমে কোম্পানি তাদের আয়ের ওপর কর দেয়, পরে সেই মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ প্রদান করলে আবারও কর দিতে হয়। এতে কোম্পানিগুলো নগদ লভ্যাংশ প্রদানে নিরুৎসাহিত হয়।
তার মতে, শেয়ারবাজারে চলমান তারল্য সংকটের কারণে অনেক কোম্পানি ও ব্যাংক কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে থাকতে পারছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে বোনাস শেয়ারের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব বাজারের জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বোনাস শেয়ারের ক্ষেত্রে কোনো নগদ অর্থের লেনদেন হয় না। এটি মূলত হিসাব সংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোম্পানির নগদ অর্থ বা সম্পদের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তাই এ ধরনের শেয়ারের ওপর কর আরোপ পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
পুঞ্জীভূত মুনাফার ওপর প্রস্তাবিত করের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এবারও বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, শেয়ারবাজারকে বিনিয়োগবান্ধব রাখতে হলে করনীতিতে ভারসাম্য আনতে হবে। বিশেষ করে বোনাস শেয়ার ও পুঞ্জীভূত মুনাফার ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহার এবং লভ্যাংশের ওপর করের বোঝা কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব করনীতি বহাল থাকলে তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং বাজারকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি যদি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে পুরোপুরি স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে অথবা নগদ লভ্যাংশের তুলনায় স্টক ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে ঘোষিত স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।
এ ছাড়া ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করলে সংরক্ষিত আয়, তহবিল বা উদ্বৃত্তের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
এমআর/এসআর