সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা , ঈদ মোবারক। পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, মিলন ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। এই দিনে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হাসি-খুশিতে সময় কাটানো, প্রিয়জনের সঙ্গে কোলাকুলি করা-এসবই যেন ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবার জীবনে এই আনন্দ সমানভাবে ধরা দেয় না। ঈদের উচ্ছ্বাসের আড়ালে কিছু মানুষের নীরব বঞ্চনা, দায়িত্ব আর একাকীত্বের গল্প চাপা পড়ে যায়।
সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং অন্যান্য জরুরি পেশায় নিয়োজিত মানুষ-ঈদের দিনেও দায়িত্বে অবিচল থাকেন। যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন তারা দেশের নিরাপত্তা, সেবা ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত থাকেন। তাদের জন্য ঈদ মানে হয়তো একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি, বা দায়িত্বের ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে একটি ফোনালাপ। তাদের এই ত্যাগ আমাদের সামাজিক কাঠামোকে সচল রাখে, অথচ আমরা অনেক সময় তাদের এই নীরব অবদান ভুলে যাই। তাদের প্রতিও আমাদের কৃতজ্ঞতা ও সম্মান থাকা উচিত, কারণ তাদের ত্যাগেই আমাদের ঈদ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়।
অন্যদিকে, সমাজের আরেকটি নিঃশব্দ বাস্তবতা হলো বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ মানুষ ও এতিম শিশুরা। ঈদ তাদের জন্য অনেক সময় শুধু একটি দিন, যেখানে অন্যদের আনন্দ তারা দূর থেকে দেখে। তাদের জীবনে ‘নাড়ীর টান’ বলে কিছু নেই; নেই আপনজনের সান্নিধ্য, নেই বাড়ি ফেরার আনন্দ। বৃদ্ধাশ্রমের কোনো বৃদ্ধ বাবা বা মা হয়তো অপেক্ষা করেন, কেউ এসে তাকে নিয়ে যাবে কিন্তু সেই অপেক্ষা অনেক সময় অপূর্ণই থেকে যায়। একইভাবে, এতিম শিশুদের কাছে ঈদ মানে নতুন জামা বা সামান্য খাবারের আনন্দ হলেও, পরিবারের উষ্ণতা তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়।
বাস্তবতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—ঈদের আনন্দ কি শুধুই ব্যক্তিগত, নাকি এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ? ঈদের মূল শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, ভাগাভাগি এবং মানবিকতা। তাই আমাদের উচিত এই দিনে শুধু নিজেদের আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে, আশেপাশের এই মানুষগুলোর কথাও ভাবা। হয়তো একটি ছোট্ট উদ্যোগ-বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে কিছু সময় কাটানো, এতিম শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, বা দায়িত্বে থাকা কারো প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ-কারও জীবনে সত্যিকারের ঈদের অনুভূতি এনে দিতে পারে।
সবার জীবনে ঈদ আসে না- এই সত্যটি আমাদের কষ্ট দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। আমরা যদি চাই, তবে আমাদের ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগেই অনেকের জীবনে ‘নাড়ীর টান’ তৈরি হতে পারে। তখনই ঈদ হবে সত্যিকার অর্থে সবার জন্য আনন্দের, সবার জন্য সমান।
মুহাম্মদ আবু আবিদ
চীফ এডিটর
(প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স)
মোহনা টিভি