পাকিস্তানের সামাজিক খাতের দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—বর্তমানে চরম অর্থায়ন সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী মৌলিক এই দুই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে বৈশ্বিক মানদণ্ডের অনেক নিচে অবস্থান করছে। পাকিস্তানে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। দেশটির মোট জিডিপির মাত্র ১.৭% শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত ৪% প্রয়োজন। কাগজ-কলমে হাজার হাজার স্কুল সচল থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই, অথচ শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন তুলছেন। সরকারি স্কুলগুলোর একটি বড় অংশে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, সীমানা প্রাচীর এবং টয়লেটের মতো মৌলিক সুবিধা নেই। মানসম্মত শিক্ষকের অভাব এবং সেকেলে শিক্ষাক্রমের কারণে শিক্ষার্থীরা যুগের সাথে তাল মেলাতে পারছে না।পাকিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দেশের সিংহভাগ মানুষ নিজের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ মেটায়, যা বহু পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রায় ৪০% শিশু দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিহীনতা বা স্টান্টিংয়ের শিকার, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্বজুড়ে পোলিও নির্মূল হলেও পাকিস্তান এখনো এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া হেপাটাইটিস ও যক্ষ্মার প্রকোপ এখানে আশঙ্কাজনক। অর্থনৈতিক মন্দা ও কম বেতনের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার দক্ষ ডাক্তার এবং নার্স দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি, ফলে এক বেডে একাধিক রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব, দুর্নীতি এবং অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। দেশের সিংহভাগ বাজেট ঋণ পরিশোধ এবং প্রতিরক্ষা খাতে চলে যাওয়ায় সামাজিক খাতে বরাদ্দ থাকে নামমাত্র। ধারাবাহিক নীতিমালার অভাব এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের তহবিলের ব্যাপক লুটপাট এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। পাকিস্তান যদি অনতিবিলম্বে তাদের জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ না বাড়ায়, তবে দেশটির মানবসম্পদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে, যা পরমাণু শক্তিধর এই দেশটির জন্য এক পারমাণবিক বিপর্যয়ের চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে।