আজকের খবর - 17-06-2026
চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলার রায়, আসামি মনিরের যাবজ্জীবন
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে (৩২) অপরাধের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) ট্রায়াল গঠনের ৭ম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা জুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মনির হোসেন বাকলিয়া এলাকার একটি ডেকোরেটর দোকানের কর্মী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। আদালত তাকে একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৩ দিনে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বিচার শেষ হলো, যা বিচারিক কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টান্ত। গত ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন আসামি মনির।
রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে সকালে পুলিশ প্রহরায় আসামি মনির হোসেনকে হাজির করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে।
ট্রায়াল গঠনের ৭ম কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়। দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামির ফাঁসি না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহবুব-উল আলম চৌধুরী বলেন, মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঘটনার মাত্র ১৪ দিনের মাথায়, গত ৪ জুন পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আজ রায়ে একমাত্র আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহেদ হোসেন জানান, রায়ে আমরা আসামির ফাঁসি দাবি করেছিলাম কিন্তু তার যাবজ্জীবন রায় হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
এ ঘটনায় ৪ জুন আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় পুলিশ। মামলায় মোট ১৮ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ (বুধবার) আদালত রায় দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। অভিযুক্ত মনিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশকে ঘেরাও করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আসামি মনিরকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষোব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
৩ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় বিআরটিসির বাস উল্টে আহত ১০
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি বিআরটিসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে বাসটি উল্টে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বাসের এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই বাসটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে উল্টে যায়। এ সময় যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।
পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির সিকদার জানান, দুর্ঘটনা-কবলিত বাসটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৩ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীতে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন ) দুপুরে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পুঠিয়ার নকুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক প্রামাণিক (৬৫) ও হাসেন প্রামাণিক (৬০)। তারা উভয়েই মৃত রিয়াজ প্রামাণিকের ছেলে।
আহতরা হলেন—একই এলাকার হাতেমের ছেলে লালন এবং জালালের ছেলে লাল্টু। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, নকুলবাড়িয়া এলাকার একটি মসজিদের জন্য মাইক কেনার উদ্দেশে চার যাত্রী অটোরিকশাযোগে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। বানেশ্বর ইয়ামাহা শোরুমের সামনে পৌঁছালে ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসেন প্রামাণিক মারা যান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
দেশে প্রথমবারের মতো সরকার ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের অংশ হিসেবে দুটি পৃথক স্থানে প্রায় ৬০০ একর জমিতে এ অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে রাশিয়া থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে সরকারি অর্থনৈতিক বিষয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সভায় রাশিয়া থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের জন্য ল্যান্ড লিজ এগ্রিমেন্ট এবং একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতারবাড়ি বন্দরের কাছাকাছি ৩০০ একর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী আরও ৩০০ একর জমিতে এ অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
নাসিমুল গনি বলেন, এ অঞ্চলে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বা কর আরোপ করা হবে না। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের আওতায় সৌদি আরব থেকে ১৯তম লটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ১৫ হাজার মেট্রিক টন রক সালফার ও ব্রাইট ইয়েলো সালফার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মোটরযান কর ও ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার কার্যক্রমে অতিরিক্ত সেবা প্রদানের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ পরিশোধের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সেতু, কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
তবে হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কস্ট-বেনিফিট অ্যানালাইসিস বা ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণের জন্য আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
নাসিমুল গনি জানান, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে এখন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এগুলো হলো— ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাব।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্স নিশ্চিত করা হবে এবং প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এলএনজি ও তেল পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রয়োজন মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জুন ও জুলাই মাসের প্রথম দিকের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশে মূল্য সমন্বয় করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
৪ ঘণ্টা আগে
শিশু নন্দিনী হত্যায় আসামির দায় স্বীকার, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র (২২)। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই এলাকার নলিনী কান্তের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাতক বিধানকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। সেই বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ও বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিন ঘণ্টা পর সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় স্থানীয়দের হামলায় এসপি-ওসিসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ডিসি-এসপির গাড়িসহ সরকারি ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার ঘটনাস্থলেই আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়। আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আজ (বুধবার) সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুস সাকিব সজিবকে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বাদী হয়ে আসামি বিধান, তার বাবা রনজিৎ ও মা সাবিত্রীকে অভিযুক্ত করে গতকাল (মঙ্গলবার) আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সে মামলায় বিধান ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিধান তার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। যেখানে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ সুপার। তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে নিখোঁজ হন শিশু নন্দিনী রায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গতকাল সকালে বাড়ির পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতের গর্ত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা ঘাতক বিধান চন্দ্রকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে মব সৃষ্টি করে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়নের যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের ক্ষোভে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে গ্রেপ্তার বিধান স্বীকার করেছে। তাই তাকে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। আদালতেও দায় স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ করা হয়নি বলে অভিযুক্ত দাবি করলেও আমরা মর্গের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার বলতে পারব। আপাতত তাদের বাবা-ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যাহার ওসির স্থলে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ঘটনা তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি মামলার প্রস্তুতি রয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই ব্যবহার করা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে এবং যারা জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আজ থেকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে কেউ দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সবাই মিলে কাজ করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দেশের মানুষের ভাগ্য বদলের এ উদ্যোগে জনগণ সরকারের পাশে থাকবে কি না। জবাবে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষ সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক একটাই—দেশের জন্য কাজ করব, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নতুন একটি স্লোগান দেন। তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১০টি পরিবারের নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একইসঙ্গে চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন।
এ সময় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ—বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, এ দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এ দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চান প্রায়ই জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে?’
তিনি বলেন,‘আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, এই যে চা শ্রমিকদের ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হলো, চা শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য ১০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হলো, মানুষের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলো—এগুলো কোনো সময়ে আপনারা শুনেছেন, কখনো দেখেছেন? আগের সরকার কোনো দিন দিয়েছে কি? দেয়নি। এগুলো কার অর্থ? জনগণের অর্থ। ’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা দেখেছি কিভাবে ১৭ বছরে এদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে গেছে। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বলে কোথা থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোথা থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা—তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের টাকা দিয়েই জনগণের জন্য কাজ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই টাকার অভাব হবে না।’
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেই বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেই বাজেটকে একটি দল গণবিরোধী বাজেট বলে। জনগণের জন্য যেই বাজেটে সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলতে পারে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়—সেটি সংসদের ভেতরেই হোক কিংবা সংসদের বাইরেই হোক—তাদের ব্যাপারে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এই লোকেরা, এই দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাফ কথা, যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, যদি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে হয়, যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কেউ নষ্ট করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীন হওয়ার সময়, স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র বিনষ্টকারী ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় একসঙ্গে ছিল। মুখে বলত তারা একসঙ্গে নয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবসময় একসঙ্গেই কাজ করেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক সময় বিএনপি জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। বিএনপি সবসময় বলে, জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের সময় অনেককে বিদেশে চলে যেতে। খালেদা জিয়া আপনাদের রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশই আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক।’
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম।
৫ ঘণ্টা আগে
শিশু আয়াত হত্যা মামলা: আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনার মামলার আসামি আবীর আলীকে (৪২) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত শনিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল শিশু আয়াত। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে মুক্তিপণের জন্য শিশু আয়াতকে অপহরণ করেন প্রতিবেশী আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন তিনি। সে বছরের ৩০ নভেম্বর নগরীর হালিশহর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট-সংলগ্ন সুইচ গেইটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে আবীর আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন বলেন, আয়াত হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
৬ ঘণ্টা আগে
ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ৬ নারী
ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি ৬ নারী।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফেরত আসারা হলেন— নুসরাত মন্ডল, ফাতেমা জিন্নাত, মিম আক্তার, সাদিয়া আক্তার, রিপা খাতুন ও আরোহী মন্ডল। তারা যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।
ফেরত আসা ফাতেমা জিন্নাত বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে তারা ২০২৩ সালে সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের হায়দারাবাদ গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা-বাড়িতে এবং বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় সেদেশের ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের তিন বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা আজ (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে দেশে ফেরেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মুর্তজ আলী জানান, ভারত ফেরত ছয় নারীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম কর্মকর্তা মুহিত হোসেন বলেন, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
লালমনিরহাটে গরুবহনকারী ভটভটি গাড়ি উল্টে খামারি নিহত
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ভটভটি গাড়ি উল্টে মফিজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক খামারি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে পলাশী ইউনিয়নের রামদেব এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মফিজুল ইসলাম রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গরুর খামারি ছিলেন ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকটি গরু নিয়ে ভটভটি গাড়িতে করে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি হাটে যাচ্ছিলেন মফিজুল ইসলামসহ কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী।
গাড়িটি রামদেব এলাকায় পৌঁছালে ভটভটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত গফুর ও ভটভটির চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৪, আক্রান্ত ১০৭৭
দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৭টি শিশু।
বুধবার (১৬ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৬৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৬১টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৬৬। এই সময়ে ৮৭২টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯০৬টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮৮ হাজার ৮৯৫, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৬৩৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৩ হাজার ২৭৭ রোগী, যাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৬৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৭ ঘণ্টা আগে