সিলেট
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।
বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিন শিশু হলো রাইয়ান, তাউসিফ ও আমায়রা। তাদের তিনজনের বয়সই ১ বছরের নিচে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৫৬ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৮৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩২৩ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
সিলেটে ফাহিমা হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেন এবং মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমে জাকিরকে সহযোগিতার জন্য তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা সকলে ফাহিমার প্রতিবেশী। ঘটনার পরই জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পরদিন ১২ মে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায় জাকির। সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানিয়েছেন, সে সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে জাকির। প্রথমে তিনি মরদেহ ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখেন। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় সেটি পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
৫ দিন আগে
সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, দুই দিনে শনাক্ত ৩ রোগী
সিলেটে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। চলতি বছরে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে গত দুই দিনে নতুন করে তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
শুক্রবার (১২ জুন) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা তিনজন হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও সেসব তথ্য সরকারি হিসাবে আসছে না বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। গত ৯ জুন থেকে ডেঙ্গু নিধনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে সিসিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নাগরিক অসচেতনতা এবং মশা নিধনে গাফিলতির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, এখনই যদি সচেতনতা সৃষ্টি করা না যায়, তাহলে ডেঙ্গু শীতকালেও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা—এসব অভ্যাসে এখনই মনোযোগ না দিলে সামনে শঙ্কা আরও বাড়বে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশিদ মুনির জানান, হাসপাতালের নতুন ভবনে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। এতে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ২০টি শয্যা রয়েছে।
৫ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মৃত শিশুটির বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৬ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম ও উপসর্গে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৭ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মৃত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। সিলেটের ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪৮ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম ও উপসর্গে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৮ দিন আগে
হবিগঞ্জে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ৫০
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানার ওসিসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন ) সকালে উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি ফরিদ মিয়া জুলাই আন্দোলনের মামলায় কারাগারে ছিলেন। এ সময় তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় যুবদল নেতা কফিল উদ্দিন।
সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হন ফরিদ আহমেদ। তিনি হাইকোর্টের আদেশে স্বপদে পুনর্বহাল হন। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকেন।
এদিকে, সোমবার সকালে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করেন। সেই কার্যক্রমে কফিল উদ্দিন বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা করে। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ ৪ জন আহত হন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে সংঘর্ষ থামাতে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। এছাড়া সেখানে পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৯ দিন আগে
সিলেটে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু
সিলেটে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
হামের উপসর্গে মৃত এ ১৭ মাস বয়েসি শিশুর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় ছিল।
এ নিয়ে সিলেট বিভাগে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪টি শিশু মারা গেছে এবং হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৬২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের নিয়ে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৭০ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে ৩ জনের নিশ্চিত হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে।
৯ দিন আগে
গোলাপগঞ্জে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের গোলাপগঞ্জে পৃথক দুটি ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি এবং গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় আরেক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকালে উপজেলার ভাদেশ্বরের কানিশাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কাদির আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
নিহত কাদির আহমদ উপজেলার শরীফ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোকামবাড়ির মৃত পুতুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) কানিশাইল এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে অটোরিকশায় থাকা কাদির আহমদ গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, একই দিন দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রাম থেকে আমান উদ্দিন সেলিম (৪৪) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আমান উদ্দিন সেলিম ওই গ্রামের মৃত মুছাব্বিরের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি আমগাছে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই দুই মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম।
১০ দিন আগে
সিলেটে মেয়েকে উত্যক্তের অভিযোগ, ঘুষিতে প্রাণ গেল প্রতিবেশীর
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার চাওড়াতল চা বাগানে প্রতিবেশীর মেয়েকে উত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চৈতন্য গোয়ালা (৪৩) নামে এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে চাওড়াতল চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চৈতন্য গোয়ালা ও আটক সুমন প্রধান (৪২) একই চা বাগানের শ্রমিক এবং প্রতিবেশী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) বিকেলে সুমন প্রধানের মেয়েকে উত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে চৈতন্য গোয়ালার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় সুমনের ঘুষিতে গুরুতর আহত হন চৈতন্য। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সুমন প্রধানকে আটক করা হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, একটি মেয়েকে উত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১০ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মৃত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। সিলেটের ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৫৭ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৭৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম ও উপসর্গে ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি বিভাগে ২২ বছর বয়সী শিক্ষানবীশ নার্স জেরিন সুলতানার মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
সিলেটের হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের পাশাপাশি বয়স্ক রোগীরাও চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ স্যালাইন নিচ্ছেন, কেউ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এস এম সাজ্জাদুল হক জানান, বর্তমানে তিদিন ৫ থেকে ৭ জন, কখনো ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত বয়স্ক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শুরুতে এত বেশি বয়স্ক রোগী আক্রান্ত হবেন বলে ধারণা করেননি তারা ।
তিনি বলেন, ‘হাম সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে ১৫ থেকে ২২ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা তাদের টিকা গ্রহণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করছি।’
১৩ দিন আগে