এশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসিতে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশে আজ মঙ্গলবার ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পালু শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় মূল ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পরাঘাতটির মাত্রা ছিল ৫.২।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
তবে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আরও কিছু সময় পরাঘাত অনুভূত হতে পারে।
আট বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহর বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবারের ভূমিকম্পের প্রবল কম্পনে সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পালু শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি হাসপাতাল রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেয়। রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে তখনও স্যালাইনের নল লাগানো ছিল।
ভূমিকম্প-কবলিত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ছবিতে দেখা যায়, এ ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি স্থাপ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আংশিকভাবে ছাদ ধসে পড়েছে, কোথাও দেওয়াল ভেঙে গেছে। এছাড়া রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এসব তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পালুর একটি চার তারকা হোটেলের মহাব্যবস্থাপক এফেন্দি নাতালি বলেন, ‘আমরা হোটেলের সব অতিথিকে সরিয়ে নিয়েছি। এমনকি যারা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন তাদেরও বের করে আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভয় পাওয়াটা এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক। বর্তমানে সবাই নিরাপদ আছেন।’
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পে হোটেলটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পালুর বাসিন্দা মুখতার আহমাদ জানান, ‘এবারের ভূমিকম্পের কম্পন ছিল খুবই শক্তিশালী। আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও আমাদের মনে রয়েছে। তাই পরাঘাতের আশঙ্কায় আমরা বাইরে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির ভূখণ্ডের নিচ দিয়ে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্টলাইন চলে গেছে। ফলে সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
সুলাওয়েসির অনেক বাসিন্দা এখনও ২০১৮ সালের সেই ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই ভূমিকম্পে পালু শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের পরপরই ৩ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হেনেছিল। এছাড়া সে বছর ‘লিকুইফ্যাকশন’ নামে একটি বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে সুলাওয়েসি অঞ্চলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়েছিল, যা পুরো এলাকাকে গ্রাস করে।
সেই দুর্যোগে সুলাওয়েসিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মাটিধসের ঘটনায় পুরো এলাকা মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন।
এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন। পরাঘাতের আতঙ্কে তখন হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
১ দিন আগে
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে করেছে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অপচয়মূলক ব্যয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকালে দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচিত বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তারা। ওই কর্মসূচি নিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশটির মুদ্রার মানও কমে গেছে।
বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আমাদের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পান? সরকার বলে, সংবিধানে বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেটি মানা হয় না।’
এরই মধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার সুপরিচিত হোটেল ইন্দোনেশিয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলি ব্যারিকেড ভেঙে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে এ বিক্ষোভে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মেনুজুইন্দোনেশিয়াব্যাংকরাপ্ট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’।
এর ফলে গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো। সে সময় এক ডেলিভারি রাইডারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিজাত শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জণগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্তামিনা বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। পার্তামাক্স নামে পরিচিত এসব জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রাবোও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ফ্রি মিলস কর্মসূচি প্রাবোও সরকারর রাজনৈতিক ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতি বছর প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা বলেন, ‘শুরু থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে জণগণের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্রি মিল কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সংশ্ষ্টিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিতে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বহুদিন দরে সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে গণহারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ফ্রি মিল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
৩ দিন আগে
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৫
ভারতের আসামে দেশটির বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ধরে যায়।
দেশটির বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি। তারা হলেন—স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।
দুর্ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে আইএএফ জানায়, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে একটি নিয়মিত উড্ডয়নের সময় আইএএফের একটি এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই প্রাণহানিতে বিমানবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবতরণের সময় বিমানটি জোরহাট বিমানঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি সেবাদানকারী দল মোতায়েন করা হয়।
৪ দিন আগে
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১৯
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়।
ফিলিপাইনের ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৩৩ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের পর উপকূলবর্তী এলাকায় প্রায় এক মিটার (তিন ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে প্যাসিফিক সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সুনামির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে।
ভূমিকম্পে হতাহতদের বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নিচে বা ভবনসংক্রান্ত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। টুনা মাছ রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বন্দরনগরী জেনারেল সান্তোসও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে।
তবে সুনামির কারণে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের পরিচালক তেরেসিতো বাকোলকল।
তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প। আমরা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখতে পেয়েছি।’
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, ‘জাতীয় সরকার কাজ শুরু করেছে এবং আমরা মিন্দানাওকে একা ছেড়ে দেব না।’
প্রথম কম্পনটি আঘাত হানার পর অসংখ্য আফটারশক অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির তীব্রতা এতই শক্তিশালী ছিল যে মালয়েশিয়াতেও তা অনুভূত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলে ছোট আকারের সুনামি ঢেউও শনাক্ত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে জেনারেল সান্তোসে অন্তত সাতজন নিহত এবং প্রায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে কয়েকটি ছোট ভবন আংশিক ধসে পড়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে বলে সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রড সোসমেনা জানিয়েছেন।
এছাড়া দক্ষিণ কোটাবাটো, দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশ এবং বালুট দ্বীপে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোসমেনা বলেন, জেনারেল সান্তোসে একটি দ্বিতল স্কুল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়েছে বলে পাওয়া খবর যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে না পারলেও দেশটির জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, শহরটিতে অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।
গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে সোমবার দেশজুড়ে সরকারি স্কুলগুলো পুনরায় খুলেছে। কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং জানান, সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন জ্ঞান হারান।
জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
রড সোসমেনা বলেন, ‘আমাদের পিকআপ গাড়িটি হঠাৎ প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে। প্রথমে মনে হয়েছিল টায়ার পাংচার হয়েছে। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।’
দায়াংহিরাং বলেন, দাভাও শহরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি মাটির কম্পনে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে বা ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছিলেন না।
ম্যানিলাভিত্তিক ডিজেডআরএইচ রেডিও জানিয়েছে, তাদের প্রাদেশিক স্টেশন অবস্থিত একটি ছোট বাণিজ্যিক ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। কর্মীরা দ্রুত নিচতলায় নেমে আসায় কেউ আহত হননি। তবে চারতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে অন্য কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আশপাশের অন্যান্য ভবন থেকেও ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে পার্ক করা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানি প্রদেশে প্রায় এক মিটার উচ্চতার সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ অঙ্গরাজ্যের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। সাবাহ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নৌপথে অল্প দূরত্বে অবস্থিত। এদিকে, সুলাওয়েসি দ্বীপের উপকূলে ৮৩ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি ফিলিপাইন। দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এছাড়া প্রতিবছর প্রায় ২০টি টাইফুন ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় দেশটিতে আঘাত হানে।
৯ দিন আগে
পারমাণবিক অস্ত্রের জ্বালানি উৎপাদনের কারখানা উন্মোচন করল উত্তর কোরিয়া
পারমাণবিক বোমার জ্বালানি উৎপাদনের একটি নতুন কারখানা উন্মোচন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন তার দেশের পারমাণবিক শক্তি ‘জ্যামিতিক হারে’ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) কারখানাটি উন্মোচন করা হয়।
যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ এখনও প্রশ্ন তুলছেন যে উত্তর কোরিয়ার কাছে সত্যিই কার্যকর পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে কিনা যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম, তবে এই পারমাণবিক কারখানার প্রকাশ ইঙ্গিত দেয় যে কিম তার দেশকে একটি পারমাণবিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই সঙ্গে তিনি তার পারমাণবিক কার্যক্রমকে আলোচনার টেবিলে তুলে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা রাখেন না।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, গতকাল (বুধবার) স্থানটি পরিদর্শনের পর কিম বলেন, তিনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘রাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকেন্দ্র হতে পারে কারখানাটি
কেসিএনএ জানিয়েছে, কারখানাটিতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে এর অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এই স্থানটিকে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।
কেসিএনএ প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, কিম রূপালি রঙের নলের সারিতে ভরা সংকীর্ণ পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, যেটিকে একটি সেন্ট্রিফিউজ কক্ষ বলে মনে হচ্ছে। আরেকটি ছবিতে তাকে একটি সভাকক্ষে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়, যেখানে টেবিলে একটি শঙ্কু আকৃতির বস্তুর ঝাপসা ছবিসহ নকশা ছড়ানো রয়েছে। তবে ওই নকশাটি কোনো ওয়ারহেডের নকশা কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কথা প্রকাশ করল উত্তর কোরিয়া। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া আরেকটি গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের ছবি প্রকাশ করেছিল। ২০১০ সালে দেশটির প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ইয়ংবিওনে আমেরিকান গবেষকদের সামনে একটি কেন্দ্র প্রদর্শন করা হয়েছিল।
গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং আইনপ্রণেতাদের জানান, উত্তর কোরিয়া ইয়ংবিওন কমপ্লেক্সসহ মোট চারটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে এবং প্রতিদিনই সেখানে কার্যক্রম চলছে।
পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি
কারখানা পরিদর্শনকালে কিম বলেন, ‘সবচেয়ে হিংস্র শত্রু যারা (যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া), তাদের মোকাবিলায় গুণগত ও পরিমাণগতভাবে দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
কিম বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ তার দেশের ‘অপরিবর্তনীয়’ অবস্থান। তিনি দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চান, যাতে তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম শেষ পর্যন্ত আংশিক পারমাণবিক সক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় জোর দেবেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার কিমের সঙ্গে পুনরায় কূটনীতি সম্পর্ক শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা জানিয়েছেন, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে সরে আসতে হবে।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
২০১৯ সালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রথম দফা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে কিম ব্যাপক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বারবার অস্ত্রভান্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ বিস্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এর ফলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখন সম্ভবত এমন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা মার্কিন মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এখনও বলছেন, উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ প্রযুক্তিগত বাধাগুলো অতিক্রম করেছে কি না তা প্রমাণিত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় ওয়ারহেড অক্ষত রাখা এবং মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড স্থাপনের প্রযুক্তি।
২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়া ২০ থেকে ৬০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এখন মনে করেন, দেশটির অস্ত্রভান্ডারে শতাধিক ওয়ারহেড রয়েছে।
২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া এক ধরনের ব্যাটেলফিল্ড পারমাণবিক ওয়ারহেড উন্মোচন করে। সে সময় বিশ্লেষকদের কেউ কেউ অনুমান করেছিলেন যে এটি নতুন পারমাণবিক পরীক্ষার আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। তবে তা নিয়ে উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা চালায়নি।
১৩ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অন্তত ১২ জন নিহত
শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ মে) ভোরে শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে আঙ্গুরুওয়াতোটা শহরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে শহরটির পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র ফ্রেডরিক উটলার জানান, ওই আশ্রমে মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও থাকতেন। ঘটনার পর ৫১ জন বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা সন্দেহে বৃদ্ধাশ্রমটির পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনে ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছাই হয়ে গেছে। ভবনের কাছাকাছি মৃতদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘হিরু’ প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস কর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা একযোগে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। উদ্ধারকৃতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ ও সেনাসদস্যরা বাসে উঠতে সাহায্য করছিলেন।
১৩ দিন আগে
পর্যটকদের লাগামহীন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে ভিসা নিয়ম কড়াকড়ি করছে থাইল্যান্ড
ব্যাংককের খাওসান রোড, শহরটির অন্যতম ব্যস্ত এক এলাকা, যা মূলত ব্যাকপ্যাকারদের (কম খরচে ভ্রমণকারী) কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। পড়ন্ত বিকেলে দেখা যায়, পানশালার কর্মীরা পথচারীদের নানা অফার দিয়ে ভেতরে ডাকার চেষ্টা করছেন। চারদিকে গাঁজার গন্ধ, শহরটিতে যা এখন বেশ সহজলভ্য। রাস্তার পাশের বিক্রেতারা নকল ট্যাটু, ফ্লিপ-ফ্লপ থেকে শুরু করে ফলের জুসসহ নানা পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
কয়েক দশক ধরেই এই রাস্তা এবং এর কোলাহলপূর্ণ রাতের জীবন বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। তবে থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষ এখন এসব উৎসবপ্রেমী দর্শনার্থীর লাগামহীন আচরণে ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছেন।
থাই ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল ‘থাই’ড আপ উইথ মিনি’র পরিচালক মিনির ভাষ্যে, অনেকে মনে করেন থাইল্যান্ড একটি ‘খেলার মাঠ’, এখানে যা খুশি করা যায়।
ভিসা নিয়মে কড়াকড়ি
আতিথেয়তার জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও থাইল্যান্ড সরকার এবার একটি সীমারেখা টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত মাসে দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ভিসা নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করবে। এর আওতায় ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিন করা হবে। তবে নতুন এই নিয়ম ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সরকারের এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের অনেক সাধারণ মানুষ। পর্যটকদের অসদাচরণে তারা রীতিমতো অতিষ্ঠ। রেস্তোরাঁর বিল না দেওয়া, রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় মারামারি কিংবা টুকটুকের ভেতর বিদেশি যুগলদের যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার মতো খবর ও ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।
এমনকি স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে ভিডিওতে। একটি ঘটনায় দেখা যায়, এক বিদেশি পর্যটক রাস্তার পাশের এক খাবার বিক্রেতার দিকে নাকের সর্দি ছুড়ে দিচ্ছেন।
মিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ডের নাগরিকরা এসব আচরণে এতটাই বিরক্ত যে ইতোমধ্যে তারা এসবের জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছেন। তারা এখন বুঝতে শুরু করেছেন যে, আমরা এ ধরনের আচরণ চাই না। এটি এখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের জন্য মোটেও সুখকর নয়।’
১৩ দিন আগে
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিদেশি নাগরিকসহ নিহত ২১
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। সেই সঙ্গে ৪০ জনের বেশি মানুষকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত ‘ফ্লাওয়ারিশ স্টে’ হোটেলের রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে।
এক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মালভিয়ায় শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের বসবাস বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন। ক্ষতি কমাতে নিচে গদি বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চার থেকে ছয়জনকে কাঁচ ভেঙে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছি। তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হয়েছে।’
হাউজ রানি এলাকার সরু গলিতে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ ছিল। আগুন লাগার সময় সেখানে ৪০ জনের বেশি অতিথি অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে আসা বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, আগুন লাগার সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লি সরকারের কাছ থেকে ফ্লাওয়ারিশ স্টে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বি অ্যান্ড বি)’ পরিষেবা আইনের অধীনে লাইসেন্স পেয়েছিল। ওই অনুমোদনের আওতায় সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ পরিচালনার সুযোগ ছিল। কিন্তু হোটেলটি বেজমেন্টসহ প্রায় ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হোটেলটির অগ্নি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ ছিল কি না, তাও যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।
ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
নিহতদের পরিবারকে সহায়তার ঘোষণা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ‘যারা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে শক্তি ও সাহস দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি।’
তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা মোতায়েন করা হয় এবং তারা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি বলেন, ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।’
দিল্লি সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই শোকের মুহূর্তে দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
১৪ দিন আগে
রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনে যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলা, নিহত ৭
ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) ভোরে মস্কো থেকে রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বাসে হামলাটি চালানো হয়।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে ক্রেমলিন-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান ডেনিস পুশিলিনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে পুশিলিন বলেন, ‘ইয়েনাকিয়েভোতে একটি ইউএভি (মানববিহীন আকাশযান) মস্কো থেকে সিমফেরোপলগামী একটি বাসে হামলা চালিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’
এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত ১১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বেলগোরোদ, কুরস্কসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা, মস্কোর আশপাশ এবং আজভ সাগরের ওপর এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানান, শুধু ওই অঞ্চলেই অন্তত ৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে আজ বুধবার থেকে বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে রাশিয়াকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।
রাতভর ড্রোন হামলার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়া।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাতভর ড্রোন হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইয়ারোস্লাভ শানকো।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বৃহত্তর এই হামলার অংশ হিসেবে রাশিয়া বিভিন্ন অঞ্চলে ১৯৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করে যার মধ্যে ১৮৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল রাশিয়া ২০২২ সালে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানোর পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো।
দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার রাতভর রাশিয়া ৭০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলে ইউক্রেনের অন্তত ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল ইউক্রেনের আগের হামলার জবাব এবং অভিযানের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানায়, মে মাসের শেষ দিকে পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত এলাকায় একটি শিক্ষার্থী আবাসনে প্রাণঘাতী হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করার পর যে ‘পদ্ধতিগত হামলার’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
কিয়েভের দাবি, তারা একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ তার দাবি, হামলাগুলো ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
১৪ দিন আগে
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১১
রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ফের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত, বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। শহরের আটটি জেলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দিনিপ্রো শহরে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
এদিকে, হামলার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দফা হামলায় এক উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
হামলায় একটি দোতলা আবাসিক ভবন এবং একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।
সারা রাত এবং আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জনগণকে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি নয়তলা ভবনের উপরের তলাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমান হামলার সতর্কতা বহাল থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সময় আজ ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।
সোলোমিয়ানস্কি জেলায় ২০ তলা ও ২৪ তলা দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
১৫ দিন আগে