ঢাকা
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁও এলাকার নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ । এ সময় কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা গেছে|
এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক, রাজু, সুমন, কাশেম ও মোবারকসহ অন্তত দশজন গুরুত্বর আহত হন। আহতদের মধ্যে অনিক, রাজু ও মোবারককে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসাপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়র। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অনিক মারা যান।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সংঘর্ষে অনিক নামে একজন নিহত হয়েছেন।
১ দিন আগে
উত্তরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
রাজধানীর উত্তরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ফজলুল করিম (৮৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে উত্তরার পূর্ব থানার আজমপুর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফজলুল করিম উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
নিহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী জাহাঙ্গীর জানান, আজ (সোমবার) সকালে আজমপুর এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন ফজলুল করিম। সে সময় অসাবধানতাবশত একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল হঠাৎ তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই পথচারীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুপুর সোয়া ১টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
২ দিন আগে
মিরপুরে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষক ও ২ ছাত্র দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সালমান (২৬), শিক্ষার্থী মো. মারুফ (১২) ও খাইরুল ইসলাম (১৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে মারুফ শরীরে ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সালমান শরীরে ২ শতাংশ দগ্ধ এবং খাইরুল ইসলাম শরীরে ৩ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় তাদের মধ্যে আমরা ২ জনকে জরুরি বিভাগে পর্যক্ষেণে রেখেছি। মো. মারুফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহত মারুফের বড় ভাই মান্নান জানান, সকালে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক দুই ছাত্র ও একজন শিক্ষককে সাইনবোর্ড টাঙানোর দায়িত্ব দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তারা তিনজনই দগ্ধ হন।
পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।
৩ দিন আগে
হানিট্র্যাপে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শরীয়তপুরে নারীকে পিটিয়ে, চুল কেটে পুলিশে সোপর্দ
শরীয়তপুরে মাদক বিক্রি ও হানিট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে এক নারীকে সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে ক্ষুব্ধ জনতা। এরপর ওই নারীর মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকার শাবনুর মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, সুলতানা আক্তার মলি নামে ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিকে পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (শনিবার) সকালে তিনি ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় ফেরার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুলতানা আক্তার মলি। তিনি বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। আমি এসব অভিযোগের সঙ্গে জড়িত নই।’
এ বিষয়ে পালং মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনো ব্যক্তির ওপর নির্যাতনের ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই আইনসম্মত পন্থা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগে কাউকে প্রকাশ্যে হেনস্তা বা শারীরিক নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
৪ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে এক পরিবারের চারজনসহ দগ্ধ ৫
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি ফ্ল্যাট বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বন্দর থানার মদনপুরে এই ঘটনা ঘটে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দগ্ধরা হলেন— মান্নান (৫০), সুলতানা (৩৫), মিম (১৩), হযরত আলী (৮) ও সিয়াম (১৯)।
ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে মান্নানের শরীরে ৩০ শতাংশ, সিয়ামের শরীরের ৭৭ শতাংশ, মিমের শরীরের ৪১ শতাংশ, সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ ও হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং দুজনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
মানিকগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মাকে হত্যার অভিযোগ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের হাতে তার বৃদ্ধ মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজিয়া বেগম (৯৫) মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম (৬০) নিহতের মেয়ে। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে ঘরের ভেতরে থাকা বটি দিয়ে রোকেয়া বেগম তার মা রেজিয়া বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে জানান যে তার দাদি মারা গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রেজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।
এলাকাবাসী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়ে রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।’
৮ দিন আগে
টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
টাঙ্গাইলের সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশভর্তি ট্রাকে মুরগিবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও একজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে নূরনবী (৬৪), নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মো. পলাশের ছেলে রফিকুল (১৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ভোলা জেলার মো. সেলিমের ছেলে সুমন (২৬)। সুমন ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীন্দর গ্রামের আফসার আলী মন্ডলের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া বাজার-সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় একটি ট্রাকে বাঁশ বোঝাই করার কাজ চলছিল। এ সময় বড়চওনার দিক থেকে আসা দ্রুতগতির মুরগিবোঝাই পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় ট্রাকে থাকা জহিরুলও গুরুতর আহত হন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৮ দিন আগে
মানিকগঞ্জে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে চোর নিহত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে রাজীব (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) ভোরে সায়েস্তা ইউনিয়নের বান্দাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজীব ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দত্তখন্ড গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জিয়ানগর (বান্দাইল) গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাকিম আলীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজীব বাড়ির টিনশেড ঘরের উত্তর পাশের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার আরও ৪ থেকে ৫ জন সহযোগী বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরে প্রবেশের পর নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাইরে থাকা সহযোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ সময় গৃহকর্তা মোহাম্মদ হাকিম আলী বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী রাজীবকে আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৯ দিন আগে
মরদেহ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভের মুখে এসআই মাসুদ প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত মো. জোবায়েরের (১৮) মৃত্যুর পর মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে মরদেহ নিয়ে গতকাল রবিবার রাতে বন্দর থানা ঘেরাও করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ঘুষ দাবির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মামলা করতে এসে ফিরে যাওয়ার কোনো তথ্য আমার জানা নেই।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা সেতুর উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত জোবায়েরের মরদেহ ঢাকা থেকে বন্দর এলাকায় পৌঁছালে শত শত মানুষ মরদেহ নিয়ে বন্দর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার পর মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি এবং ঘুষ দাবির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের জন্য থানায় গেলে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধুর কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় সে সময় মামলা নেওয়া হয়নি। জোবায়েরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ নিয়ে তারা থানার সামনে অবস্থান নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলা গ্রহণে পুলিশের ভূমিকার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী থানায় এলে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
সাভারে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ
সাভার অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম’ গ্রুপের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে আল-মুসলিম গ্রুপের ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানার সামনে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিক জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেন প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানায়, কারখানার মূল ফটকের সামনে শিল্প পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাভারে কর্মরত কিছু গণমাধ্যমকর্মীকে অফিসে ডেকে নিয়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শনিবার) সকাল ৮টার দিকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা উলাইল এলাকায় কারখানার সামনে এসে অবস্থান নেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেনে অবস্থান নেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই লেনে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক আলেয়া আক্তার, জোসনা বেগমসহ অন্যরা অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আমাদের ছাঁটাই করেছে। আমাদের অনেকেরই ন্যায্য পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে হঠাৎ চাকরি হারিয়ে আমরা পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের হয় চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে, না হয় আইনানুযায়ী সমস্ত বকেয়া পাওনা এককালীন বুঝিয়ে দিতে হবে।
কারখানার অপারেটর সালমা আক্তার বলেন, ২০১৭ সাল থেকে এই কারখানায় কাজ করছি। হঠাৎ করেই কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদেরকে ছাঁটাই করেছে। বাসা ভাড়া, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ-সব মিলিয়ে হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, তিন মাসের টাকা দিয়ে ছাঁটাই করার কথা থাকলেও তারা আমাকে মাত্র এক মাসের টাকা দিয়েছে।
১৩ বছর ধরে এই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত আফানুর জানান, হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে ছাটাই করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে কাজে এলে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ঢুকতে দেয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৭ বছর ধরে কর্মরত রোজিনা আক্তার, ২ বছর ৫ মাস ধরে কর্মরত মো. রকিবুল্লাহ এবং ট্রেনিং সেন্টার থেকে সদ্য লাইনে আসা আছিয়া আক্তার। তাদের অভিযোগ, তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা দিয়ে ছাঁটাই করার নিয়ম থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।
বর্তমানে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়কের সার্ভিস লেন অবরোধ করার চেষ্টা করলে আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিই। শ্রমিকদের দাবি, তাদের পাওনাদি ঠিকমতো না দিয়েই ছাঁটাই করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং কারখানার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই বিষয়ে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে।
তার দাবি, কারখানা পলিসি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে কোনো শ্রমিকের যদি পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতা থাকে, তাহলে তারা যোগাযোগ করলে আমরা যাচাই করে তা পরিশোধ করে দেব।
প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম গ্রুপ’ তাদের তিনটি কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের মধ্যে সাভার পৌর এলাকার উলাইল এলাকার ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানা থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার ‘প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার’ কারখানার ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ায় অবস্থিত ‘আল-মুসলিম অ্যাপারেলস’ কারখানার ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।
১১ দিন আগে