উলিপুরে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি গ্রামে বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের সন্তানদের বিরুদ্ধে। পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ভাকারু শেখের ওয়ারিশদের মধ্যে এই বিরোধের সূত্রপাত। ভাকারু শেখের চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে খসরু শেখ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। অভিযোগ উঠেছে, তার ছোট ভাই মৃত আলিম উদ্দিনের সন্তানেরা খসরু শেখকে তাদের বড় চাচা হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, খসরু শেখ ও আলিম উদ্দিন মূলত একই ব্যক্তি। এর মাধ্যমে তারা খসরু শেখের প্রাপ্য জমির অংশ অন্যদের বঞ্চিত করে নিজেদের দখলে রাখতে চাইছেন বলে দাবি করছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।
স্থানীয় এসএ রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খসরু শেখের নামে পৃথক দাগে মোট ৩১ শতাংশ জমি রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্য এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খসরু শেখ ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫২ সালে মারা যান। তার পৃথক জন্মনিবন্ধন সনদও রয়েছে। তবে আরএস রেকর্ডের সময় আলিম উদ্দিন কৌশলে কিছু জমি নিজের নামে রেকর্ড করান বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার সন্তানেরা ওই জমির পূর্ণ দখলদারিত্ব দাবি করছেন।
ভুক্তভোগী রাহেনা বেগমের ছেলে আব্দুস সাত্তার জানান, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষ কোনো সমাধান মানেনি। গত ১২ এপ্রিল পৈতৃক জমিতে গেলে প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তারা। এসময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খসরু শেখের ভাই ছলিম উদ্দিন ও তিন বোন জানান, খসরু শেখ তাদের বড় ভাই হিসেবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত ছিলেন। স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেমসহ গ্রামবাসীও খসরু ও আলিম উদ্দিনকে আলাদা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক বলেন, আমার বাবা তিন ভাই ছিলেন। খসরু শেখ নামে আলাদা কোনো ভাই ছিল না। জমি নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি কাগজপত্র ও আইন অনুযায়ী আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তানভীরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম (চিলমারী- উলিপুর)