মায়ের সঙ্গে নদীতে নেমে শিশু নিখোঁজ
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মধুমতি নদীতে মায়ের সঙ্গে গোসল করতে নেমে ফাতেমা (৫) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। রোববার (৭ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার শুকতাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ ফাতেমা ওই গ্রামের শুকুর আলী মোল্লার মেয়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার দুপুরে শিশুটি নদীতে নিখোঁজ হয়। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল এনে নদী থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করা হয়। কিন্তু নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধারকারী দলটিকে প্রথম থেকেই বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মোহাম্মদ শাহিন আলী জানান, বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে খবর পেয়ে তারা ফরিদপুর থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, নদীর তলদেশে প্রচুর গাছের গুঁড়ি রয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজ শিশুটি হয়তো নির্দিষ্ট স্থান থেকে কিছুটা আগে-পাছে ভেসে গেছে। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রথম দফায় শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।
এদিকে স্থানীয় ও উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় শিশুটি আর বেঁচে নেই। স্রোতের কারণে সে নদীর ঠিক কোন জায়গায় আটকে আছে বা ভেসে গেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে ট্রলার নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীও নদীতে সন্ধান চালাচ্ছেন। চোখের পলকে একমাত্র শিশু সন্তান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারজুড়ে চলছে বুকফাটা হাহাকার।

মাসুদ পারভেজ, গোপালগঞ্জ