বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, ফটকের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। গতকাল রোববার (৭ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার পরপরই দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সুজিত কর্মকার। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ তোলে। এর জেরে ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। এরপর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে আসেন সুজিত কর্মকার। তিনি প্রধান ফটকের সামনে নামার পরপরই কয়েকজন তরুণ তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন এবং জোরপূর্বক পুনরায় অটোরিকশায় তুলে নিয়েও মারধর করা হয়। এসময় স্থানীয় কয়েকজনের ধারণ করা মারধরের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের শিকার ওই শিক্ষক প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যান। পরে সেখানে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি জানান, সুজিত কর্মকারের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গেছে এবং আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ওই শিক্ষক জানান, চিকিৎসা শেষে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। রোববার তিনি বিদ্যালয়ে আসার সময় গেটে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, একজন প্রধান শিক্ষককে মারধরের মৌখিক অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর